বান্দরবানে পর্যটকবাহী গাড়িতে অগ্নিকাণ্ড: অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন যাত্রীরা..

MD Hasan avatar   
MD Hasan
বান্দরবানে পর্যটকবাহী গাড়িতে অগ্নিকাণ্ড: অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন যাত্রীরা..
বান্দরবানে পর্যটকবাহী গাড়িতে অগ্নিকাণ্ড: অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন যাত্রীরা..
বান্দরবান সদর উপজেলার সাত মাইল এলাকায় ঢাকা থেকে আসা একটি পর্যটকবাহী গাড়িতে যান্ত্রিক ত্রুটি থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তাৎক্ষণিক যাত্রীরা নেমে পড়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।..

বান্দরবান পর্যটন কেন্দ্রের প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত সাত মাইল এলাকায় আজ সকালে ঢাকা থেকে আগত একটি পর্যটকবাহী গাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা থেকে পর্যটকদের নিয়ে বান্দরবান অভিমুখে যাত্রা করা গাড়িটির ইঞ্জিন থেকে হঠাৎ ধোঁয়া নির্গত হতে দেখলে চালক গাড়িটি থামিয়ে দেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ইঞ্জিন থেকে আগুনের সংকেত পাওয়ার পরপরই গাড়িতে থাকা পর্যটকদের দ্রুত বের করে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। যাত্রীরা নিরাপদে গাড়ি থেকে নেমে যাওয়ার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই পুরো গাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার সময় এলাকাটিতে স্থানীয় লোকজন এবং অন্যান্য পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রাথমিক তদন্তে যান্ত্রিক ত্রুটি বা শর্ট সার্কিট থেকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)

সরাসরি কেনাকাটা করুন
সবগুলো দেখুন

গাড়িতে থাকা পর্যটকদের অভিযোগ, দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময় গাড়ির ইঞ্জিনের অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বা অন্য কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়ে চালক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আগে থেকে কোনো সতর্কতা অবলম্বন করেনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পর্যটক জানান, গাড়িটি চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ করে ড্যাশবোর্ডে সতর্কবার্তা জ্বলে ওঠে এবং ইঞ্জিন থেকে ধোঁয়া বের হতে শুরু করে। তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে তারা জীবন বাঁচাতে গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন, তবে তাদের সাথে থাকা ব্যক্তিগত মালামাল ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হয়েছে। পর্যটকদের দাবি, দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রাপথে যেসব যানবাহন ব্যবহৃত হচ্ছে সেগুলোর ফিটনেস নিয়মিত যাচাই না করায় বারবার এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। পাহাড়ের দুর্গম ও আঁকাবাঁকা রাস্তায় এ ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি কেবল পর্যটকদের বিপন্ন করছে না, বরং সামগ্রিক পর্যটন খাতের নিরাপত্তার ওপরও বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিচ্ছে।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বান্দরবান জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গাড়িটির মালিকপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট পরিবহন এজেন্সিকে তলব করা হয়েছে যাতে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা যায়। পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দাবি, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ সত্ত্বেও অনেক সময় পুরনো যানবাহনের বৈদ্যুতিক সিস্টেম বা জ্বালানি লাইনে ত্রুটি দেখা দেয়, যা চলন্ত অবস্থায় শনাক্ত করা কঠিন। তবে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, পর্যটন মৌসুমে অতিরিক্ত মুনাফার লোভে ফিটনেসবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সড়ক নিরাপত্তার মানদণ্ড নিশ্চিত করতে কঠোর আইনি পদক্ষেপের অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পর্যটকদের সহায়তায় এবং পরিবহন মালিকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে স্থানীয় প্রশাসন তৎপর রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটন খাতে নিরাপত্তার ঘাটতিকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। পর্যটকদের আস্থা ধরে রাখতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বিপর্যয় রোধ করতে পর্যটনবাহী প্রতিটি যানবাহনের নিয়মিত যান্ত্রিক পরীক্ষা ও ফিটনেস সনদ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। পাহাড়ের বিপজ্জনক বাঁকগুলোতে এ ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি যদি চলন্ত অবস্থায় বড় কোনো দুর্ঘটনার কারণ হতো, তবে তা পর্যটন শিল্পে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলত। সুতরাং, পরিবহন মালিক ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে নিয়মিত তদারকি এবং চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধিই হতে পারে এই সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ, যাতে দেশের পর্যটকরা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে পাহাড়ি সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।

No comments found


News Card Generator