এদিকে বিএনপির ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ায় সুবিধাজনক ও স্বস্থিতে অনেকটা ফুরফুরে আমেজে আছে জামায়াত প্রার্থীরা।
জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসনে মোট ২১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১৮ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী তিন জন।
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম, যিনি বাগেরহাট-১, ২ ও ৩ এই তিনটি আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার এই সিদ্ধান্ত বিএনপির ভোট সমীকরণে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অন্য দুজন স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থী হচ্ছেন, বাগেরহাট-১ আসনে দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও জেলা আহ্বায়কআ কমিটির সদস্য প্রকৌশলী মো. শেখ মাসুদ রানা ও বাগেরহাট-৪ আসনে বাগেরহাট জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কাজী খাইরুজ্জামান শিপন।
ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় বিএনপি দুই বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রকৌশলী মো. শেখ মাসুদ রানা ও কাজী খাইরুজ্জামান শিপনকে দলের প্রথমিক সদস্য পদসহ দলের সব পদ থেকে বহিষ্কার করলেও বাগেরহাটে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভোটের মাঠে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। এবারই প্রথম জেলার সবকটি আসনে বিএনপি প্রার্থীদের বিজয়ী হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকলেও দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে তা কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ধানের শীষের প্রার্থীরা। এই অবস্থায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের আশঙ্কা, দলীয় কোন্দল ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কারণে চারটি আসনেই ভরাডুবি হতে পারে বিএনপির। এমন পরিস্থিতিতে জেলার চারটি আসনেই জামায়াতের প্রার্থীরা সুবিধা পাচ্ছেন বলে মনে করছেন তৃণমূলের বিএনপির নেতাকর্মীরা।
বাগেরহাট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মহাসচিব ও বাংলাদেশ অশ্বিনী সেবা আশ্রমের সভাপতি কপিল কৃষ্ণ মন্ডল। বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছে বিএনপির সাবেক এমপি এম এ এইচ সেলিম এবং জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য প্রকৌশলী মো. শেখ মাসুদ রানা। এই দুই জনকে জামায়াত প্ৰাৰ্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মো. মশিউর রহমান খানের সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পড়তে হবে।
বাগেরহাট-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। তবে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হবে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি এম এ এইচ সেলিম ও জামায়াত প্রার্থী শেখ মনজুরুল হক রাহাতের সঙ্গে।
বাগেরহাট-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সুন্দরবন সুরক্ষা আন্দোলনে দেশব্যাপী পরিচিত মুখ ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। বিএনপির সাবেক এমপি এম এ এইচ সেলিম বাগেরহাট-১ ও বাগেরহাট-২ আসনের পাশাপাশি একই সঙ্গে বাগেরহাট-৩ আসনেও স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। ফলে এ আসনেও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারে জামায়ত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ শেখ।
বাগেরহাট-৪ আসনে বিএনপির নতুন মুখ বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সাবেক সভাপতি সোমনাথ দে ধানের শীষের প্রার্থী। এই আসনে দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কাজী খাইরুজ্জামান শিপন। বিএনপি প্রার্থীকে এখন দলের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর পাশাপাশি জামায়ত প্রার্থী অধ্যক্ষ মো. আব্দুল আলীমের সঙ্গে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে।
বাগেরহাটের সব আসনে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকার বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মোজাফ্ফর রহমান আলম জানান, বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়টি বিএনপি চেয়ারম্যান, মহাসচিবসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের অবহিত করা হয়েছে। এ জেলায় বিএনপির প্রার্থীদের হারাতে একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দলের বিদ্রোহীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন। তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই জেলা বিএনপি অঙ্গসংগঠনের সব ইউনিটের নেতাকর্মীকে দলীয় প্রার্থীর সঙ্গে সমন্বয় করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে বলা হয়েছে। প্রায় সব নেতাকর্মী এরই মধ্যে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রতিদিনই মনিটরিং করা হচ্ছে।
close
ভিডিও আপলোড করুন পয়েন্ট জিতুন!
বাগেরহাটে নির্বাচনি স্বস্তিতে জামায়াত,বিদ্রোহী প্রার্থীর চাপে বিএনপি..
বাগেরহাটে জাতীয় নির্বাচনে স্বস্তিতে নেই বিএনপির প্রার্থীরা। জেলার চারটি সংসদীয় আসনের বিদ্রোহীর স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় চাপে রয়েছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা।..
Aucun commentaire trouvé



















