বাগদুলী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকের বেত্রাঘাতে ছাত্র হাসপাতালে, অভিযুক্ত শিক্ষক অবরুদ্ধ..

Nafiz Ahamed avatar   
Nafiz Ahamed
****


নাফিজ আহমেদ,রাজবাড়ী প্রতিনিধি: 
রাজবাড়ীর পাংশায় পড়া না পারার অজুহাতে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পিটিয়ে ও লাথি মেরে জখম করার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আহাদ হোসেনকে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে অবরুদ্ধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ স্থানীয় ও অভিভাবকরা।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাগদুলী উচ্চ বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীর নাম মো. তাছিন মুন্সী (১৩)। সে মৌরাট ইউনিয়নের মালঞ্চি এলাকার মো. সবুজ মুন্সীর ছেলে। বর্তমানে সে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আহাদ হোসেন কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের খরখরিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং বাগদুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক।
সহপাঠী ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ক্লাস চলাকালীন পড়া না পারার জেরে শিক্ষক আহাদ হোসেন তাছিনকে ১৫-২০টি বেত্রাঘাত করেন। একপর্যায়ে তাছিন বেশি মারার কারণ জানতে চাইলে শিক্ষক আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে বেঞ্চের ওপর তুলে পেটান এবং একপর্যায়ে ফ্লোরে ফেলে অমানবিক ভাবে লাথি মারতে থাকেন। সহপাঠীরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে শিক্ষক তাদের ওপরও চড়াও হন।
ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে জড়ো হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচারের দাবি জানান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রধান শিক্ষক নিরাপত্তার স্বার্থে অভিযুক্ত শিক্ষককে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরি কক্ষে আটকে রাখেন।
আহত শিক্ষার্থী তাছিনের সহপাঠী মো. সিয়াম মিয়া জানায়, "স্যার আমাদের পড়া না পারার জন্য ২টা করে বেত দিয়ে মারছিলেন, কিন্তু তাছিনকে অনেক বেশি মারেন। কেন তাকে বেশি মারা হচ্ছে— তাছিন এ কথা বলা মাত্রই স্যার মেজাজ হারিয়ে তাকে বেঞ্চের ওপর তুলে মারতে থাকেন এবং পরে নিচে ফেলে লাথি মারেন।"
অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আহাদ হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, "পড়া না পারার জন্য প্রথমে তাকে শাসন করেছিলাম। এরপর ওই ছাত্র আমার মা তুলে গালি দিলে আমি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাকে মারধর করি। আমি নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত।"

کوئی تبصرہ نہیں ملا


News Card Generator