আমিরাতের আকাশসীমা লক্ষ্য করে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা; ফুজাইরাহ তেল স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ড..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
গত কয়েকদিন ধরেই হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ এবং ইরানের অবরোধ নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে ছিল। আজ আমিরাতের ওপর এই হামলা সেই উত্তেজনারই একটি বিপজ্জনক মোড় বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা..

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে এবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ওপর সরাসরি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। সোমবার (৪ মে) বিকেলের এই হামলায় দেশটির ফুজাইরাহ আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অঞ্চলজুড়ে নতুন করে যুদ্ধ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তৎপরতা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক জরুরি বিবৃতিতে জানিয়েছে, সোমবার বিকেলে ইরান থেকে একযোগে বেশ কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ধেয়ে আসে। আমিরাতের অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে অধিকাংশ হামলা রুখে দিতে সক্ষম হয়। তবে এর মধ্যেই একটি ড্রোন ফুজাইরাহ আমিরাতের একটি তেল স্থাপনায় আঘাত হানতে সক্ষম হয়।

ফুজাইরাহ তেল স্থাপনায় আগুন

ফুজাইরাহ মিডিয়া অফিস নিশ্চিত করেছে যে, ইরানের একটি ড্রোন আঘাত হানার পরপরই সংশ্লিষ্ট তেল স্থাপনায় বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। আগুনের লেলিহান শিখা দূর থেকে দেখা যাচ্ছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সিভিল ডিফেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের একাধিক দল সেখানে কাজ করছে।

হতাহত ও প্রতিক্রিয়া

এখন পর্যন্ত এই হামলায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। সংযুক্ত আরব আমিরাত এই ঘটনাকে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছে। তবে এই হামলার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য বা দায় স্বীকার করা হয়নি।

সংঘাতের প্রেক্ষাপট ও বৈশ্বিক প্রভাব

গত কয়েকদিন ধরেই হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ এবং ইরানের অবরোধ নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে ছিল। আজ আমিরাতের ওপর এই হামলা সেই উত্তেজনারই একটি বিপজ্জনক মোড় বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

  • জ্বালানি বাজার: ফুজাইরাহ বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি তেল মজুদ ও সরবরাহ কেন্দ্র। এখানে হামলার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • নিরাপত্তা ঝুঁকি: এই হামলার ফলে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সামরিক তৎপরতা আরও বৃদ্ধি পাবে, যা চলমান যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

সূত্র: আলজাজিরা।

Walang nakitang komento


News Card Generator