আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে চমক তৈরি করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদী। শনিবার বিকেলে ঢাকা-৮ আসনের অন্তর্গত মতিঝিল এলাকায় ব্যাপক জনসংযোগ কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেন। এসময় তার সঙ্গে স্থানীয় সমর্থক ও তরুণ প্রজন্মের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
জনসংযোগ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শরিফ ওসমান হাদী বলেন, "আমার নির্বাচনী প্রচারণার জন্য আজ বিদেশে থাকা এক ভাই ২০ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। তিনি চেয়েছেন, প্রতিদিন ক্যাম্পেইনে যেন এলাকার মানুষকে কিছু খাওয়ানো হয়। আমার কাছে এই ২০ হাজার টাকা আসলে ২০ লাখ টাকার সমান। কারণ এটি শুধু অর্থ নয়, মানুষের ভালোবাসা ও আস্থার প্রতীক।"
তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় অর্থের জোর নয়, বরং জনগণের বিশ্বাস ও অংশগ্রহণকেই বড় করে দেখার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, রাজনীতিকে মানুষের কাছে ফিরিয়ে আনতে হলে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসতেই হবে।
পিআর বা প্রোপোর্শনাল রিপ্রেজেন্টেশন (PR) প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে হাদী বলেন, "আমরা নিম্নকক্ষে পিআর চাই না। যদি তা করা হয় তবে আওয়ামী লীগ এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের অনুগত লোকদের সামনে নিয়ে আসবে। তবে আমরা উচ্চকক্ষে অবশ্যই পিআর চাই। সেখানে এটি কার্যকর হতে পারে।"
নিজস্ব নির্বাচনী ইশতেহারের বিষয়ে হাদী জানান, তাদের ইশতেহার হবে মাত্র এক পৃষ্ঠার। তিনি বলেন, "এই ইশতেহার আমরা শাহবাগ মোড়ে টাঙিয়ে রাখব। মানুষ যদি আমাদের সংসদে পাঠায়, তাহলে আমরা এই ইশতেহারের কতগুলো প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছি আর কতগুলো করতে পারিনি তার পূর্ণ জবাবদিহিতা দেব। জনগণ আমাদের কাজের হিসাব চাইবে, আর আমরা তা দিতে প্রস্তুত।"
এছাড়া তরুণদের সংসদে পাঠানো জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, "যদি কোনো রাজনৈতিক দল মনে করে আমাদের মতো তরুণদের সংসদে যাওয়া দরকার, তাহলে তারা আমার আসনে প্রার্থী না দিতে পারে। তবে আমি নিজে কোনো দলের প্রতীক, যেমন ধানের শীষ বা দাঁড়িপাল্লার প্রতিনিধি হতে চাই না। আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েই জনগণের আস্থা অর্জন করতে চাই।"
স্থানীয় জনগণ হাদীর এই প্রচারণাকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখছেন। অনেকেই বলছেন, প্রচলিত দলীয় রাজনীতির বাইরে তরুণদের এমন সরাসরি অংশগ্রহণ গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। অন্যদিকে হাদীর ঘোষণায় নির্বাচনী অঙ্গনেও তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্বল্প অর্থ ও শক্তি নিয়েও যদি তরুণ প্রার্থীরা আন্তরিকতা, সততা ও জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেন, তবে তারা আগামী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে সক্ষম হবেন। শরিফ ওসমান হাদীর স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা সেই সম্ভাবনারই নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।