আমাকে সবাই মারধর করে, আর নির্বাচন করার ইচ্ছা নেই: হিরো আলম..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
 আমাকে সবাই মারধর করে, আর নির্বাচন করার ইচ্ছা নেই: হিরো আলম..
 আমাকে সবাই মারধর করে, আর নির্বাচন করার ইচ্ছা নেই: হিরো আলম..
বারবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও আক্রমণের শিকার হওয়া হিরো আলম এবার সরাসরি জানালেন তাঁর হতাশার কথা। শারীরিক নিগ্রহ ও হেনস্তার কারণে আর ভোটে দাঁড়ানোর কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই।..

আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলম বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে নিজেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বারবার সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতার শিকার হওয়ায় তিনি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন বলে ভিডিওটিতে স্পষ্ট জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, যে দেশের জনগণের জন্য তিনি এত কিছু করলেন, সেই জনগণই তাঁকে নিরাপত্তা দিতে আসেনি, যার ফলস্বরূপ তাঁর আর নির্বাচন করার কোনো ইচ্ছা নেই।

মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)

সরাসরি কেনাকাটা করুন
সবগুলো দেখুন

এক প্রশ্নের জবাবে হিরো আলম জানান, একসময় তাঁর স্বতন্ত্র নির্বাচন করার বা নিজস্ব দল গঠন করার প্রবল ইচ্ছা ছিল। তিনি মনে করতেন, জনগণের জন্য লড়াই করা তাঁর দায়িত্ব। কিন্তু বাংলাদেশের যে বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান, তাতে তাঁর আর রাজনীতিতে আসার কোনো আগ্রহ অবশিষ্ট নেই।

তিনি সম্প্রতি আদালতে ঘটে যাওয়া এক তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, প্রকাশ্য আদালতে অন্তত আট থেকে দশ জন লোক তাঁকে মারধর করে। এ সময় আশপাশে বহু লোক থাকলেও কেউ তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেনি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যে জনগণের জন্য তিনি মার খেলেন, সেই জনগণ যদি তাঁর পাশে না দাঁড়ায়, তবে তিনি কার জন্য নির্বাচন করবেন বা কার জন্য লড়বেন?

রাজনীতিতে তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। হিরো আলমের দাবি, তিনি আওয়ামী লীগের শাসনামলেও মার খেয়েছেন। অন্যদিকে, বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার (তাঁর উল্লেখ অনুযায়ী) আসার পরে যখন তিনি আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদেরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করতে আদালতে যান, তখন সেখানে তাঁকে মারধর করে বিএনপির লোকজন

ঘটনাটির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, তিনি যখন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মামলা করতে যান, তখন তাঁকে বিএনপির সমর্থকেরা আঘাত করে। এটি তাঁকে গভীরভাবে হতাশ করেছে। তিনি বলেন, “আমি তো ভাই বিএনপির বিরুদ্ধে আমি ইয়ে করে কথাও বলিনি, তারপরে তাদের বিরুদ্ধে মামলাও করতে গেনি।”

এর ভিত্তিতে হিরো আলমের চূড়ান্ত রাজনৈতিক বিশ্লেষণ হলো—তিনি আওয়ামী লীগের কাছেও নিরাপদ নন, বিএনপির কাছেও নিরাপদ নন, এবং বর্তমানে যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক (তাঁর ভাষ্যমতে 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার'), তিনি তাদের কাছেও নিরাপত্তা পাচ্ছেন না। এমন পরিস্থিতিতে, তিনি দেশের মানুষের কথা বলবেন বা নির্বাচন করবেন, এমন কোনো কারণ খুঁজে পান না।

এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতি টানেন এবং জানান যে তিনি টোটালি রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন ('কলস')। এখন থেকে তাঁর মনোযোগ থাকবে মিডিয়া ও তাঁর নিজস্ব কেবল (ডিসনি কেবল) ব্যবসায়িক কাজে। তিনি স্বীকার করেন যে বর্তমানে তাঁর মিডিয়া কাজও কমে গেছে।

ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন দিক উল্লেখ করে হিরো আলম বলেন, সম্প্রতি তাঁর দুইজন বাবা মারা গেছেন। এখন তাঁর দুই-তিনটি সন্তান ছাড়া আর কেউ নেই, যাদের নিয়ে তিনি বাকি জীবন সময় দিতে চান। রাজনীতিতে তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হওয়ার পর, পরিবার ও ব্যবসায় মনোযোগ দেওয়াকেই তিনি বুদ্ধিমানের কাজ মনে করছেন।

তাঁর এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বহুমাত্রিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর ওপর বারবার হওয়া হামলা, জনগণের নীরবতা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরে বিরাজমান অসহিষ্ণুতা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চর্চার সুস্থ পরিবেশ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

No comments found


News Card Generator