নতুন সরকারের প্রশাসনিক গতিশীলতা এবং তৃণমূল পর্যায়ের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আজ রোববার (৩ মে) থেকে শুরু হচ্ছে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬। সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠনের পর এটিই বর্তমান প্রশাসনের প্রথম ডিসি সম্মেলন।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
সম্মেলনে গুরুত্ব পাচ্ছে স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো
এবারের সম্মেলনে জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে মোট ৪৯৮টি প্রস্তাব দাখিল করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে দেশের স্বাস্থ্য খাতকে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ৪৪টি প্রস্তাবই জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা সম্পর্কিত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি প্রস্তাব হলো:
-
রংপুরে ১০০০ শয্যার হাসপাতাল: উত্তরাঞ্চলের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে এই প্রস্তাব।
-
গাজীপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল: শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্য।
-
নোয়াখালীতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর: উপকূলীয় অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের পরিকল্পনা।
-
চিকিৎসক উপস্থিতি ও জনবল: স্টেশনে চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং নার্সসহ প্রয়োজনীয় সহায়ক জনবল নিয়োগের জোর দাবি।
আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক জবাবদিহি
সম্মেলনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে আরও বেশি জবাবদিহির আওতায় আনার প্রস্তাব দিয়েছেন ডিসিরা। বিশেষ করে থানায় করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) বিষয়ে ডিসিকে অবহিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আলোচিত হবে। এ ছাড়া সরকারি পিপি ও জিপি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার প্রস্তাবও রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বার্তা: 'পরিচয় হোক মেধা ও যোগ্যতায়'
শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি কর্মকর্তাদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কোনো কর্মকর্তার পরিচয় যেন ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিকভাবে না হয়ে মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে হয়। সরকারি কর্মচারীদের একমাত্র পরিচয় হবে তাদের কর্মস্পৃহা এবং জনসেবা।
সম্মেলনের ৪ দিনের কর্মসূচি এক নজরে:
-
১ম দিন (আজ): প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত অধিবেশন। বিকেলে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ।
-
২য় দিন (সোমবার): অর্থ মন্ত্রণালয় এবং স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়।
-
৩য় দিন (মঙ্গলবার): সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ এবং প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ। এদিন নির্বাচন কমিশন নিয়েও আলোচনা হবে।
-
৪র্থ দিন (বুধবার): স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত আলোচনা। রাতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিনার ও অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভা।
উন্নয়ন ও বাজেট ব্যবস্থাপনা
সম্মেলনে জাতীয় বাজেটের অর্থ ১৫ এপ্রিলের মধ্যে ছাড় করা, ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়ক আট লেনে উন্নীত করা এবং চা বাগানে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচ্য তালিকায় রয়েছে। এছাড়াও কওমি মাদরাসার জন্য নীতিমালা প্রণয়ন এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষায় পাঠদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি—এই তিন ভাগে বাস্তবায়ন করা হবে। গতবারের সম্মেলনের সিদ্ধান্তের ৪৪ শতাংশ সফলভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে বলেও জানানো হয়।