২৮ বছরের স্মৃতি তছনছ: দখলে গেল আলীকদম প্রেসক্লাব
মো. আমির হোসাইন ছাদেকী, আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি: বান্দরবানের আলীকদমে ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী ‘আলীকদম প্রেসক্লাব’ ভবন জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার ১২ জুন বিকেলে প্রেসক্লাবের দায়িত্বশীলদের মারধর করে বের করে দেওয়ার পর তালা ভেঙে ভবনটি দখল করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ক্লাবের বর্তমান নেতৃত্ব। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
যেভাবে ঘটলো দখলের ঘটনা:
প্রেসক্লাব সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মমতাজ উদ্দিন আহমদ জানান, গত ৩১ ডিসেম্বর প্রশাসনের সহায়তায় ক্লাবের দুই সদস্যকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। এরপর পদত্যাগী সদস্যদের নিয়ে ২৩ এপ্রিল একটি ‘আহ্বায়ক কমিটি’ গঠন করা হয়। শুক্রবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে নির্বাচনের নামে অনুষ্ঠানের পর বিকেলে ওই কমিটির লোকজন ও কয়েকটি অনলাইন পোর্টালের সংবাদকর্মীকে নিয়ে প্রেসক্লাব ভবনের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় বিএনপি থেকে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হওয়া বিতর্কিত নেতা আবুল কালামের নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী ক্লাব চত্বরে জড়ো হন। হামলায় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব, রেজাউল, শাহ আলম এবং সভাপতির পঞ্চম শ্রেণির ছেলে রাহী ও নবম শ্রেণির ছেলে ওহী আহত হন।
সভাপতি মমতাজ উদ্দিনের দাবি, আবুল কালাম দীর্ঘদিন ধরে ক্লাবের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করছেন। ২০১৯ সালেও ভূয়া কমিটি করে দখলের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ক্লাবের সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য পাঁচ কোটি টাকার বেশি।
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা:
ঘটনার সময় আলীকদম সেনা জোনের সদস্যরা উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের ক্লাব চত্বর থেকে সরিয়ে দেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম ঘটনাস্থলে আসেন। সাংবাদিকদের অভিযোগ, ইউএনও’র ‘প্রেসক্লাব সরকারি সম্পত্তি, যে কোনো সাংবাদিক প্রবেশ করতে পারবেন’ মন্তব্যের পর দখলকারীরা তালা ভাঙতে উৎসাহিত হয়।
ইউএনও মনজুর আলম দাবি করেন, ১৯৯৯ সালের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নয়, বরং সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত যে কেউ ক্লাবের সদস্য হতে পারবেন। সেনা জোনের উপ-অধিনায়ক জানান, উত্তেজনা প্রশমনে তারা ঘটনাস্থলে গেছেন, তবে নেতৃত্ব নিয়ে সেনাবাহিনী কোনো সিদ্ধান্ত দেবে না।
ঘটনার দিন প্রেসক্লাব সভাপতি বান্দরবানের পুলিশ সুপারের সঙ্গে ফোনে কথা বললেও রাতে বহিরাগতরা অফিসকক্ষে ঢুকে ৫৬ প্রকার মালামালের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করে বলে অভিযোগ।
সাংবাদিক সমাজের প্রতিক্রিয়া:
প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মো. কামরুজ্জামান বলেন, “আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মতপ্রকাশের প্ল্যাটফর্ম দখল করা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য বড় হুমকি।”
দখলের প্রতিবাদে স্থানীয় সাংবাদিকরা অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্ত, দখলকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং প্রেসক্লাবে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ ঘটনা আলীকদমের ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত অধ্যায়।
প্রেসক্লাবের অবস্থান:
ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৯৯৯ সালের গঠনতন্ত্রের আলোকেই সদস্য সংগ্রহ ও কমিটি গঠন হয়ে আসছে। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপ ও দখলমুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
সরাসরি কেনাকাটা করুন
স্ক্যানার লিগাল প্রিন্টার স...
চুইঝাল গাছের চারা
বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির ও ...
টেবিল ঘড়ি
Galaxy TAB A11+
Galaxy Tab A11
Casio Youth World Time AE-1...
Xiaomi OiDiRe Multifunction...
Rose Design 8 pcs King Size...
Unstitched 3 Piece Embroide...