চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় নিরব হাসান ইমন নামে ২৩ বছর বয়সী এক যুবকের আত্মহত্যার পর নতুন মোড় নিয়েছে। এই ঘটনায় এক নাবালিকা কিশোরীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত ইমনের বাবা, জহির আহমদ, ৪ আগস্ট রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নম্বর ৫, ধারা ৩০৬/৩৪
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট নিজের বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন ইমন। এর আগে, গত ১৫ জুলাই ইমনের বিরুদ্ধে একটি নাবালিকা কিশোরীর পক্ষ থেকে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় ইভটিজিংয়ের অভিযোগ দাখিল করা হয়েছিল। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইমন পুলিশি তত্ত্বাবধানে একটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেন, যেখানে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে ভবিষ্যতে ওই কিশোরীকে কোনো ধরনের বিরক্ত করবেন না।
এই ঘটনার পর, ইমনের আত্মহত্যার ২০ মিনিট আগে তার ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট করা হয়, যেখানে তিনি তার মৃত্যুর জন্য কিশোরীর পরিবার ও স্থানীয় স্কুল কমিটির সভাপতিকে দায়ী করেন। তবে ফেসবুক পোস্টের সত্যতা ও এর আইনগত গ্রহণযোগ্যতা এখনো তদন্তাধীন।
অভিযুক্ত মায়শা, নুরুল আজিম তালুকদার, শহীদুল্লাহ, রাশেদ উল্লাহ এবং শিবলু একই এলাকার বাসিন্দা। এদের মধ্যে মোহাম্মদ আজিম তালুকদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "সালিশ বৈঠক কিংবা থানার অভিযোগের সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সামনে স্থানীয় নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ায় রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতেই আমাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।"
রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দীন জানান, "ঘটনার তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।" তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শেফায়েতের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি, কারণ তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এই ঘটনা রাঙ্গুনিয়ার সমাজে গভীর প্রভাব ফেলেছে এবং আত্মহত্যার কারণ ও প্ররোচনার অভিযোগের সত্যতা নিয়ে আলোচনা চলছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন ঘটনায় পুলিশি তদন্তের পাশাপাশি সমাজের ভূমিকা এবং যেকোনো ধরনের মানসিক চাপ ও সামাজিক প্রতিকূলতা মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি।
এটি শুধুমাত্র একটি আইনি নয়, বরং সামাজিক বিষয়ও। সমাজের প্রতিটি স্তরে সংবেদনশীলতা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে এ ধরনের দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।