প্রাক্তন স্ত্রীর অন্তরঙ্গ ভিডিও দেখিয়ে চাঁদা দাবি

Roni Mia avatar   
Roni Mia
প্রাক্তন স্ত্রীর অন্তরঙ্গ ভিডিও দেখিয়ে চাঁদা দাবি
প্রাক্তন স্ত্রীর অন্তরঙ্গ ভিডিও দেখিয়ে চাঁদা দাবি
ছবি: সংগৃহীত

****

টাকা না দিলে অন্তরঙ্গ মূহুর্তের ছবি ভাইরাল! সাবেক স্ত্রীর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা পিশাচ স্বামীর তিন বোন গ্রেপ্তার

সংসার ভাঙার ক্ষত শুকানোর আগেই নেমে এল এক নির্মম ও পিশাচসুলভ বুলডোজার! পবিত্র সম্পর্কের ইতি ঘটিয়ে সাবেক স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও গোপন মুহূর্তের ছবিকে পুঁজি করে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির এক অবিশ্বাস্য ও লোমহর্ষক ঘটনা কাঁপিয়ে দিয়েছে পুরো অঞ্চল। যে মানুষটির সঙ্গে একসময় ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখেছিল এক নারী, আজ সেই মানুষটিই তার সর্বনাশের খঞ্জর হাতে তুলে দিয়েছে!

আইন ও শরিয়াহ মেনে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জামাল হোসেনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন ভুক্তভোগী ওই নারী। কিন্তু নরপিশাচ জামালের সংসারে স্থায়ী হয়নি শান্তি। দাম্পত্য কলহের জেরে চলতি বছরের ১২ মে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। কিন্তু বিচ্ছেদের পরই শুরু হয় আসল রূপ ধারণ করা এক পৈশাচিক খেলা।

দাম্পত্য জীবনের সেই একান্ত মুহূর্তের কিছু গোপন ও অন্তরঙ্গ ছবি সুকৌশলে নিজের মুঠোফোনে সংরক্ষণ করে রেখেছিলো জামাল। আর বিচ্ছেদের পর সেই ছবিগুলোই হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে শুরু হয় ব্ল্যাকমেইল। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, বাঁচতে চাইলে দিতে হবে পাঁচ লাখ টাকা! অন্যথায় ওই ছবিগুলো ফেসবুক, মেসেঞ্জারসহ সোশ্যাল মিডিয়ার বাতাসে উড়িয়ে দিয়ে সামাজিক ও মানসিকভাবে শেষ করা হবে তাকে! একটি অসহায় মেয়ের মান-সম্মান নিয়ে এই ছিনিমিনি খেলার নেপথ্যে শুধু জামালের হীন মানসিকতাই ছিল না, তার বোনেরাও জড়িয়ে পড়েছিল এই জঘন্য অপরাধের সাথে।

সর্বস্ব হারানোর ভয়ে আর চরম মানসিক যন্ত্রণায় শেষ পর্যন্ত গত ১৯ জুলাই কিশোরগঞ্জ আদালতে সাবেক স্বামীসহ চারজনকে আসামি করে পর্নগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করেন ওই ভুক্তভোগী নারী। আদালতের নির্দেশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ।

অবশেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুলিয়ারচর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সারফিন মিয়ার চৌকস নজরদারিতে গত সোমবার (৩ আগস্ট) সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ থানার পিঠাপই গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মামলার প্রধান আসামি জামালের তিন বোনকে  রিমা বেগম (২৪), আকলিমা বেগম (২২) ও শাপলা বেগমকে (৩২)। গ্রেপ্তারের পর তাদের কিশোরগঞ্জের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মূল অভিযুক্ত সাবেক স্বামী জামাল হোসেন ঘটনার পর থেকেই ধরাছোঁয়ার বাইরে। পুলিশ জানায়, প্রধান আসামি জামাল হোসেন বর্তমানে গ্রিসে অবস্থান করায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। আদালতের নির্দেশে মামলাটি কঠোরভাবে এফআইআরভুক্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে নতুন কোনো তথ্য বা প্রমাণ মিললেই পিশাচ জামালকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে একচুলও ছাড় দেবে না পুলিশ

No comments found


News Card Generator