উপজেলা জামায়াতের আমীর দিপুর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ..

Abu Raihan avatar   
Abu Raihan
উপজেলা জামায়াতের আমীর দিপুর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ..
উপজেলা জামায়াতের আমীর দিপুর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ..
ছবি: সংগৃহীত

****

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কোলা ইউনিয়নের লালুহা গ্রামের আলফা কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড মাদ্রাসার পরিচালক ও আক্কেলপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিউল হাসান দিপুর বিরুদ্ধে ১০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। পরে তারা ভান্ডারপুর বাজারের চার রাস্তার মোড়ে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে ভারী বর্ষণের কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিল। এ সময় পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী মাদ্রাসায় গেলে পরিচালক শফিউল হাসান দিপু তাকে একা পেয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, শিশুটি চিৎকার ও কান্নাকাটি করে সেখান থেকে বেরিয়ে বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের ঘটনাটি জানায়।
পরদিন মঙ্গলবার সকালে শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্তকে মাদ্রাসায় না পেয়ে বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী মাদ্রাসার একটি কক্ষে ভাঙচুর চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করেন। পরে তারা ভান্ডারপুর বাজারের চার রাস্তার মোড়ে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

খবর পেয়ে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ইসরাত জাহান ছনি, বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রুহুল আমিন এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

সরেজমিনে কয়েকজন অভিভাবক ও এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, এর আগেও শফিউল হাসান দিপুর বিরুদ্ধে একাধিক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল। এছাড়া স্থানীয় কাজী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি অনিয়ম, বাল্যবিবাহ সম্পাদন এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মে জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বলেন, এ ধরনের ব্যক্তির কাছে আমাদের সন্তানরা নিরাপদ নয়। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মামলা হলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শফিউল হাসান দিপুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

No comments found


News Card Generator