ভিডিও দেখুন, পয়েন্ট জিতুন!
ショーツ 作成
মাত্র ১৮ বছর বয়স—জীবনের শুরু, স্বপ্ন গড়ার সময়। অথচ এ বয়সেই এক তরুণ এমন এক নির্মম সিদ্ধান্ত নিল, যা ভাবলেও হৃদয় কেঁপে ওঠে। আত্ম*হত্যা—এটা কোনো সমাধান নয়, বরং এক চরম পরিণতি। কিন্তু কী এমন কষ্ট ছিল তার জীবনে, যা তাকে এত বড় এক নিকৃষ্ট পথ বেছে নিতে বাধ্য করলো?
ছেলেটির বাবা নেই। পরিবারে ছিল শুধু মা ও এক বোন। সংসারের বড় সন্তান হিসেবে হয়তো দায়িত্বের ভারটাই বেশি অনুভব করতো। কে জানে—কোনো চাপ, অপমান, হতাশা বা অভাব তাকে ভিতর থেকে এমনভাবে ভেঙে দিয়েছে, যার বোঝা সে আর বহন করতে পারেনি।
সে নিজের জীবনটা শেষ করে দিলো ঠিকই—কিন্তু পেছনে রেখে গেলো এক অসহায় মা, যার বুকটা আজ ফেটে চৌচির, আর এক ছোট বোন, যার ভরসার একমাত্র মানুষটাকেও কেড়ে নিলো এই নিষ্ঠুর বাস্তবতা। সে নিজের জীবন দিয়ে নিজের প্রিয়জনদেরও যেন জীবন্ত লাশ বানিয়ে গেলো।
জানি না, কী সেই অজানা কষ্ট, কিন্তু এটুকু জানি—কাউকে হারানোর ব্যথা সারা জীবনের জন্য রয়ে যায়। জীবন যতই কঠিন হোক, বেঁচে থাকার লড়াইটাই সবচেয়ে বড় সাহস। কেউ যদি আগে পাশে দাঁাতাতো, একটু বোঝাতো—হয়তো আজ গল্পটা অন্যরকম হতো।
যশোর সদর উপজেলার রূপদিয়া শেখপাড়া গ্রামে সুরাইয়া আক্তার স্মৃতি (১৮) নামের এক তরুণী গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি মিলন শেখ (মিলন ড্রাইভার) এর ছোট মেয়ে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২ আগস্ট) প্রতিদিনের ন্যায় রাতে খাবার শেষে "স্মৃতি" তার মায়ের সঙ্গে নিজের ঘরে ঘুমাতে যান। ঘন্টা খানেক পরে মাকে নিজ ঘরে গিয়ে ঘুমানোর অনুরোধ করেন "স্মৃতি"। এরপর রাত আনুমানিক ১২টার দিকে তার মা ঘরে উঁকি দিয়ে দেখতে পান সে তখনও মোবাইল দেখছে। এরপর তিনি তার কক্ষে যেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। কিন্তু পরদিন ভোরে স্মৃতির মোবাইল ফোনে দীর্ঘক্ষণ ধরে এলার্ম বাজলে মায়ের ঘুম ভেঙ্গে স্মৃতিকে ডাকাডাকি শুরু করেন। দীর্ঘসময় ধরে সাড়া না মেলায় সন্দেহ হয়। প্রতিবেশীদের সহায়তায় ঘরের দরজা ভেঙে তারা দেখেন, স্মৃতি আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে আছেন। জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে স্মৃতির বিয়ে হয় যশোর শহরের শংকরপুর চোপদারপাড়ার বাসিন্দা আহাদ আলীর সঙ্গে। কিন্তু সম্প্রতি আহাদ দ্বিতীয় বিয়ে করলে স্মৃতি বাবার বাড়িতে চলে আসেন এবং মানসিক অশান্তিতে ভুগছিলেন বলে পরিবার জানায়। রবিবার (৩ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হয়।




