বোয়ালমারীতে ছেলের পর মায়েরও মৃত্যু, আশঙ্কাজনক অবস্থায় মেয়ে | আই নিউজ বিডি

বোয়ালমারীতে ছেলের পর মায়েরও মৃত্যু, আশঙ্কাজনক অবস্থায় মেয়ে..

Faridpur Desk avatar   
Faridpur Desk
বোয়ালমারীতে ছেলের পর মায়েরও মৃত্যু, আশঙ্কাজনক অবস্থায় মেয়ে..
বোয়ালমারীতে ছেলের পর মায়েরও মৃত্যু, আশঙ্কাজনক অবস্থায় মেয়ে..
ছবি: সংগৃহীত
ইকবাল হোসেন লিমন, বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:

 ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে ও ডিভোর্সের খবরে দুই সন্তানকে নিয়ে কীটনাশক পান করা আছিয়া বেগম (২৮) মারা গেছেন। ১৯ মাস বয়সী সন্তান জিসানের মৃত্যুর পাঁচ দিনের মাথায় রোববার (৮ নভেম্বর) ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। একই হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে তার পাঁচ বছর বয়সী অপর মেয়ে সন্তান তাবিয়া মিনহা।

৮ নভেম্বর (রবিবার) বিকেলে পারিবারিক ভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার বাবা।

গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌরসভার কলারণ গ্রামে বাবার বাড়িতে দুই সন্তানকে নিয়ে কীটনাশক পান করেন আছিয়া। গুরুতর অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে মা ও দুই সন্তানকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথমে মারা যায় ১৯ মাস বয়সী ছেলে জিসান। এরপর রোববার (৮ নভেম্বর) মারা গেলেন মা আছিয়াও। এখন একই ঘটনায় পরিবারের বেঁচে থাকা অন্য সন্তান তাবিয়া মিনহা মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।

পরিবারের সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে বোয়ালমারী উপজেলার রূপাপাত ইউনিয়নের রূপাপাত গ্রামের আকমাল শেখের ছেলে আমিনুর শেখের সঙ্গে আছিয়ার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিন সন্তান। বড় ছেলে দ্বীন ইসলাম (১০) স্থানীয় একটি মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী। মেয়ে তাবিয়া মিনহার বয়স পাঁচ বছর এবং ছোট ছেলে জিসানের বয়স ছিল ১৯ মাস।

বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক নানা বিষয়ে স্বামীর সঙ্গে আছিয়ার বিরোধ চলছিল বলে পরিবারের অভিযোগ। সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরানোর আশায় প্রায় দেড় বছর আগে আছিয়ার বাবা সত্তার মোল্যা প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে আমিনুরকে বিদেশে পাঠান। কিন্তু এরপরও সংসারে শান্তি ফেরেনি। একপর্যায়ে তিন সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন আছিয়া।

পারিবারিক বিরোধের সূত্র ধরে গত ২৫ সেপ্টেম্বর আছিয়ার বাবার বাড়িতে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক হয়। পরিবারের দাবি, ওই বৈঠকে আমিনুর ও তার পরিবারের সদস্যরা পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আছিয়াকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ না করার পাশাপাশি তালাক দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টিও জানতে পারেন আছিয়া।

পরিবারের ভাষ্য, স্বামীকে ফিরে পাওয়ার আশায় দীর্ঘদিন চেষ্টা করছিলেন আছিয়া। একপর্যায়ে অনেক খোঁজাখুঁজির পর আমিনুরের ফোন নম্বর সংগ্রহ করে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। গত ৩ নভেম্বর বিকেলে ফোনে কথা বলার পরপরই দুই সন্তানকে নিয়ে কীটনাশক পান করেন বলে জানিয়েছেন আছিয়ার বাবা সত্তার মোল্যা।

কীটনাশক পানের পর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকদের চেষ্টায় প্রথমে আছিয়াকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ১৯ মাস বয়সী জিসানের অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে গুরুতর অবস্থায় থাকা আছিয়া ও তাবিয়া মিনহাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। রোববার চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছিয়ার মৃত্যু হয়। তাবিয়া এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বোয়ালমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান- ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের নিকট মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি মামলা হয়েছে। বর্তমানে তার স্বামীও স্ত্রী কর্তৃক নারী নির্যাতন ও যৌতুক দাবিতে করা মামলায় পলাতক আসামী।

Ingen kommentarer fundet


News Card Generator