সাংবাদিক হেনস্তা ও জাতীয় সংগীত অবমাননার অভিযোগ: চিত্রনায়িকা পরীমণির… | আই নিউজ বিডি

সাংবাদিক হেনস্তা ও জাতীয় সংগীত অবমাননার অভিযোগ: চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
সাংবাদিক হেনস্তা ও জাতীয় সংগীত অবমাননার অভিযোগ: চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ..
সাংবাদিক হেনস্তা ও জাতীয় সংগীত অবমাননার অভিযোগ: চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ..
ছবি: সংগৃহীত
আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিক হয়রানি, প্রাণনাশের হুমকি এবং জাতীয় সংগীত অবমাননার অভিযোগে চিত্রনায়িকা পরীমণিকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে আইনি নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।..

গত ৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মামলায় জামিন লাভের উদ্দেশ্যে ঢাকা আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে চিত্রনায়িকা শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমণি যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন, তা আইন ও নৈতিকতার চরম লঙ্ঘন বলে প্রতীয়মান হয়েছে। আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশের সময় সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্বে নিয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীদের মাধ্যমে যে পেশিশক্তি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটে, তা বিচারিক পরিবেশের পবিত্রতা নষ্ট করেছে। বিশেষ করে সমকাল পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইনের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া, ভিডিও ট্রাইপড ভেঙে ফেলা এবং দায়িত্ব পালনরত অন্যান্য সাংবাদিকদের শারীরিক হেনস্তা করার বিষয়টি পেশাদার সাংবাদিকতার পথে বড় ধরনের অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এছাড়া বিচারপ্রার্থী সুজন চন্দ্র মণি দাসের মাথা ফেটে যাওয়ার ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, আদালতের মতো সংবেদনশীল স্থানে অতিরিক্ত ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে আসা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা কতটা ভয়াবহ হতে পারে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাসান শাহরিয়ার প্রেরিত আইনি নোটিশে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে এই ঘটনার জন্য পরীমণিকে লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নোটিশের অনুলিপি পাঠিয়ে তার বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক রবিউল হোসাইনের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা এবং তার প্রতি পরীমণির অশালীন আচরণ ও প্রাণনাশের হুমকি কেবল ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর এক সরাসরি আঘাত। নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শারীরিক প্রতিবন্ধী একজন কর্মীর প্রতি ‘তোকে পিষে মেরে ফেলব’—এমন আপত্তিকর মন্তব্য এবং গালিগালাজ একজন চলচ্চিত্র তারকার কাছ থেকে কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। আদালত প্রাঙ্গণ যেখানে আইনের শাসন ও নিরাপত্তার প্রতীক, সেখানে ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীদের ব্যবহার করে সাংবাদিক হেনস্তা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার বিষয়টি বিচারিক শৃঙ্খলাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল। এছাড়া গত ৬ নভেম্বর নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে জাতীয় সংগীতকে অশ্লীল পোস্টের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগটি জাতীয় মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করেছে। এই ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি কেবল আইনকে অবজ্ঞা করছেন না, বরং জনসমক্ষে চরম ঔদ্ধত্য ও কুরুচিপূর্ণ মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও সচেতন মহলের দাবি, আদালত প্রাঙ্গণে কোনো ব্যক্তি বা তার নিরাপত্তারক্ষীরা আইন নিজ হাতে তুলে নিতে পারেন না এবং এক্ষেত্রে প্রশাসনের নীরব ভূমিকা প্রশ্নের উদ্রেক করছে। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দায়িত্ব হলো তাদের সদস্যদের নৈতিক আচরণ নিশ্চিত করা, কিন্তু এখন পর্যন্ত সমিতির পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপের নজির পাওয়া যায়নি। নোটিশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আগামী সাত দিনের মধ্যে যদি পরীমণি তার কর্মকাণ্ডের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা না চান এবং শিল্পী সমিতি প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তবে পরবর্তীতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে যেকোনো প্ল্যাটফর্মে অশ্লীল কথাবার্তা, হুমকি কিংবা শৈল্পিক মূল্যহীন কুরুচিপূর্ণ নাচ-গান প্রদর্শন থেকে তাকে বিরত থাকার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এটি কেবল একটি আইনি নোটিশ নয়, বরং বিচারিক অঙ্গনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি চূড়ান্ত সতর্কবার্তা।

পরিশেষে, আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং জাতীয় প্রতীকের মর্যাদা রক্ষা করা রাষ্ট্রের অপরিহার্য দায়িত্ব। পরীমণির মতো একজন জনব্যক্তির কাছ থেকে এমন বিতর্কিত আচরণ কেবল ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলছে না, বরং এটি বিনোদন জগতের নৈতিক অবক্ষয়কে স্পষ্ট করে তুলছে। স্বাধীন সাংবাদিকতা ও বিচারিক পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং যথাযথ আইনি প্রতিকার অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায়, এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি করবে, যা সামগ্রিক সুস্থ সংস্কৃতির পরিপন্থী।

نظری یافت نشد


News Card Generator