জিয়াউর রহমানের রাজনীতির পুনরুত্থান ও জাতীয় স্থিতিশীলতা নিয়ে… | আই নিউজ বিডি

জিয়াউর রহমানের রাজনীতির পুনরুত্থান ও জাতীয় স্থিতিশীলতা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
জিয়াউর রহমানের রাজনীতির পুনরুত্থান ও জাতীয় স্থিতিশীলতা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি..
জিয়াউর রহমানের রাজনীতির পুনরুত্থান ও জাতীয় স্থিতিশীলতা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি..
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, বিগত সরকারের ষড়যন্ত্র এবং অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেছেন।..

শনিবার রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বিগত সরকারের ষড়যন্ত্রের স্বরূপ উন্মোচন করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, দীর্ঘ ১৭ বছরের আধিপত্যবাদী শাসন ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে দেশে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনীতির পুনরুত্থান ঘটেছে। মন্ত্রী দাবি করেন, আঞ্চলিক প্রভুদের সেবাদাস হিসেবে কাজ করা পুতুল সরকারের পতনের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের পথ প্রশস্ত হয়েছে। তবে ষড়যন্ত্রের জাল এখনো পুরোপুরি ছিন্ন হয়নি বলে তিনি সতর্ক করেন। তার মতে, ক্ষমতার মসনদ হারানোর পর পরাজিত শক্তি নতুন করে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যা মোকাবিলায় রাজনৈতিক দলগুলোকে সচেতন থাকতে হবে এবং জাতীয় অগ্রগতির স্বার্থে অবিচল থেকে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাই অভ্যুত্থান ও বিগত সরকারের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার অপচেষ্টার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ৩৬ দিনের আন্দোলনের ফসল হিসেবে জুলাই অভ্যুত্থান ঘটলেও এর পেছনে বছরের পর বছর ধরে চলা গুম, নির্যাতন ও ত্যাগের ইতিহাস রয়েছে। ইলিয়াস আলীর মতো গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের কষ্টের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর একার অবদান নয়, বরং এটি সমগ্র দেশবাসীর দীর্ঘ লড়াইয়ের ফসল। যারা এই আন্দোলনের মালিকানা দাবি করে নিজেদের একক কৃতিত্ব জাহির করতে চায়, তাদের রাজনৈতিক পরিপক্কতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তিদের সাথে তর্কে জড়িয়ে সময় নষ্ট করা অর্থহীন, কারণ চব্বিশের চেতনাকে সংকীর্ণ গণ্ডিতে আবদ্ধ করলে তা কখনোই জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠতে পারবে না।

প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিভিল সার্ভিসের সদস্যদের রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব থেকে বেরিয়ে এসে দেশসেবায় মনোনিবেশ করতে হবে। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রাজনৈতিক চাপ, লোভ ও ভয়ের কারণে যারা অতীতে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করেছেন, তাদের কর্মকাণ্ডের দায়ভার রাষ্ট্রকে বহন করতে হচ্ছে। তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, কোনো সরকারই চিরস্থায়ী নয়, তাই গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে সমুন্নত রাখাই হোক প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। এছাড়া তিনি নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে বলেন, নিয়মিত নির্বাচনের মাধ্যমেই একটি স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব। ৫১ ভাগ মানুষের জনরায় যেখানে থাকবে, তারাই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাবে—এই গণতান্ত্রিক মূলনীতি অনুসরণের মাধ্যমে দেশকে একটি স্থিতিশীল অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

পরিশেষে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রশাসনিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাকে নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। তার এই কঠোর অবস্থান প্রমাণ করে যে, সরকার দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক চর্চা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখা বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। জনমতের প্রতিফলন ঘটিয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের যে অঙ্গীকার তিনি করেছেন, তা বাস্তবায়িত হলে দেশের পরিবহন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিদ্যমান বিশৃঙ্খলা কমে আসবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘব হবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। দেশের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা এখন অনেকাংশেই সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সমঝোতার ওপর নির্ভর করছে।

Hiçbir yorum bulunamadı


News Card Generator