অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও আদর্শিক বিচ্যুতি: জাতীয় নাগরিক পার্টি ছাড়লেন… | আই নিউজ বিডি

অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও আদর্শিক বিচ্যুতি: জাতীয় নাগরিক পার্টি ছাড়লেন সামান্তা শারমিন..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও আদর্শিক বিচ্যুতি: জাতীয় নাগরিক পার্টি ছাড়লেন সামান্তা শারমিন..
অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও আদর্শিক বিচ্যুতি: জাতীয় নাগরিক পার্টি ছাড়লেন সামান্তা শারমিন..
ছবি: সংগৃহীত
দলের ভেতরে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অগণতান্ত্রিক চর্চা ও জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোট গঠনের প্রতিবাদে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন।..

জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব থেকে সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ দলটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটের একটি স্পষ্ট প্রতিফলন হিসেবে দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে দলের আদর্শিক অবস্থান এবং সাংগঠনিক কার্যপদ্ধতি নিয়ে নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে তিনি এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোট গঠন এবং দলের ভেতরে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসায় তিনি দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। সামান্তা শারমিন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই পদত্যাগ কোনো আবেগতাড়িত বা হুট করে নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়, বরং দলের মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুতি এবং প্রথাগত রাজনৈতিক ধারায় এনসিপির ঝুঁকে পড়ার বিষয়টি তাকে এই দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক বিরোধের দিকে ঠেলে দিয়েছে। দলের ভেতরে এখন আর গঠনমূলক আলোচনার কোনো কার্যকর ফোরাম অবশিষ্ট নেই বলেই তিনি মনে করেন।

সামান্তা শারমিনের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে এনসিপির অস্বচ্ছ সাংগঠনিক কাঠামো এবং দায়িত্ব বণ্টনের অস্পষ্ট মানদণ্ড। তিনি দাবি করেছেন, ১৯৭ সদস্যের কমিটিতে বড় ধরনের রদবদল আনা হলেও কাদের যোগ্যতার ভিত্তিতে এসব পদায়ন করা হয়েছে, তার কোনো প্রকাশ্য ক্রাইটেরিয়া বা স্বচ্ছ নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি। নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রশ্নেও তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার ভাষ্যমতে, দলের শীর্ষ পর্যায়ে থাকা নারীরা জামায়াতের সাথে জোটের বিরোধিতা করলেও তাদের কণ্ঠস্বরকে নারী সমাজের প্রতিনিধিত্ব হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, বরং পুরো প্রক্রিয়াটি পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতায় পরিচালিত হয়েছে। দলের ভেতরে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক চিন্তার আধিপত্য কায়েম করার জন্য নেতাকর্মীদের ওপর এক ধরনের অদৃশ্য চাপ প্রয়োগ করা হয়, যা এনসিপির প্রাথমিক সংস্কারবাদী লক্ষ্যের সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক বলে তিনি মনে করেন।

দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ভিন্নমতকে দমন করার প্রবণতা এবং জামায়াত নিয়ে আপসহীন অবস্থানের বিপরীতে এনসিপির নমনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সামান্তা শারমিন। তিনি জামায়াতের রাজনৈতিক আদর্শ ও গঠনতন্ত্রের সমালোচনা করে বলেছেন, একটি নতুন রাজনৈতিক শক্তির পক্ষে পুরোনো ব্যবস্থার সংস্কার না করে বরং সেই ব্যবস্থার অংশ হয়ে যাওয়াটা আত্মঘাতী। তার মতে, এনসিপি রাষ্ট্র পর্যায়ে বিরোধী মতকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বললেও নিজেদের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন আচরণ করছে, যা দলটির রাজনৈতিক সততাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তবে তিনি এনসিপিকে সরাসরি জামায়াতের ‘বি টিম’ হিসেবে চিহ্নিত করতে নারাজ, বরং তিনি মনে করেন এনসিপির এই আদর্শিক বিভ্রান্তি তাদের সংস্কারের রাজনীতিকে সংকুচিত করে ফেলেছে।

সামান্তা শারমিনের এই পদত্যাগ এনসিপির সাংগঠনিক ভিত্তিকে কতটা দুর্বল করবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা বিশ্লেষণ চলছে। আপাতত নতুন কোনো রাজনৈতিক দল গঠনের পরিকল্পনা না থাকলেও তিনি আগামী কয়েক মাস বিভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ও ব্যক্তির সাথে আলোচনার মাধ্যমে নিজের পরবর্তী ভূমিকা নির্ধারণ করবেন বলে জানিয়েছেন। দলের পুরোনো কাঠামোর সাথে আপস করে কোনো বিপ্লবী পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়—এই উপলব্ধির জায়গা থেকেই তিনি এনসিপির বর্তমান নেতৃত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। তার এই প্রস্থান এনসিপির জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ দলটির ভিত্তি ও ইতিহাসে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল অনস্বীকার্য।

Nenhum comentário encontrado


News Card Generator