জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস: রাঙ্গুনিয়ায় জিয়াউর রহমানের সমাধিতে… | আই নিউজ বিডি

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস: রাঙ্গুনিয়ায় জিয়াউর রহমানের সমাধিতে বিএনপি নেতা আলমগীরের শ্রদ্ধা..

Md. Nezam Uddin avatar   
Md. Nezam Uddin
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস: রাঙ্গুনিয়ায় জিয়াউর রহমানের সমাধিতে বিএনপি নেতা আলমগীরের শ্রদ্ধা..
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস: রাঙ্গুনিয়ায় জিয়াউর রহমানের সমাধিতে বিএনপি নেতা আলমগীরের শ্রদ্ধা..
ছবি: সংগৃহীত
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়ার জিয়ানগরস্থ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও বিশেষ মোনাজাত করেছেন পোমরা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন।..

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসকে কেন্দ্র করে রাঙ্গুনিয়ার জিয়ানগরস্থ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন পোমরা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন। শনিবার সকালে দলীয় নেতাকর্মীদের একটি বিশাল বহর নিয়ে তিনি সমাধিতে উপস্থিত হন এবং পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রপতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দিবসটির গুরুত্ব অনুধাবন করে তিনি দলীয় আদর্শকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও সুসংহত করার লক্ষ্যে এই শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচির আয়োজন করেন, যা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে তিনি কেবল শহীদ রাষ্ট্রপতির স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেননি, বরং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের একটি প্রয়াসও চালিয়েছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা জিয়াউর রহমানের রেখে যাওয়া আদর্শকে ধারণ করে আগামী দিনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার শপথ গ্রহণ করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন পরবর্তী মোনাজাতে অংশ নিয়ে মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সাথে বিগত বছরগুলোতে চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত দলীয় নেতাকর্মীদের স্মরণে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়। এ সময় আলমগীর হোসেন উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনা না ঘটলে বাংলাদেশ হয়তো এক গভীর ও অনিশ্চিত সংকটের মুখে পতিত হতো। তিনি দাবি করেন যে, ওই সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় রাজনৈতিক ধারার প্রবর্তন ও নেতৃত্ব প্রদানের মাধ্যমে জাতিকে এক নতুন দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন, যা আজও দেশের জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে বর্তমান সময়ে বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনের যে প্রাসঙ্গিকতা, তা তিনি তৃণমূল কর্মীদের মাঝে নতুন করে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। ভুক্তভোগী ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে তিনি বলেন, দলের দুঃসময়ে যারা লড়াই করেছেন, তাদের অবদান কখনো বৃথা যাবে না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা জানান, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শই তাদের এগিয়ে যাওয়ার মূল শক্তি। তারা অভিযোগ করেন যে, দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা কোণঠাসা অবস্থায় থাকলেও ৭ নভেম্বরের মতো জাতীয় দিবসগুলো তাদের পুনরায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রেরণা জোগায়। তারা প্রশাসনের কাছে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান এবং যেকোনো মূল্যে দলের প্রতিটি নেতাকর্মীর নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির এই ধরনের কর্মসূচিগুলো মূলত দলের তৃণমূলের ভিত্তি মজবুত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে স্থানীয় নেতৃত্ব নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নির্দেশনা পালনেও তৎপরতা দেখাচ্ছেন। প্রশাসনের নজরদারি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখেও এই ধরনের জমায়েত স্থানীয় রাজনীতিতে বিএনপির সক্রিয় উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

সামগ্রিকভাবে, রাঙ্গুনিয়ার জিয়ানগরে আয়োজিত এই শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী আলমগীর হোসেনের একটি রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে। জিয়াউর রহমানের আদর্শকে পুঁজি করে তৃণমূল নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার এই প্রয়াস ভবিষ্যতে স্থানীয় রাজনীতির সমীকরণ পরিবর্তন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ৭ নভেম্বরের চেতনাকে ধারণ করে বিএনপি যে নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে, তা স্থানীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। পরিশেষে, এই ধরনের কর্মসূচি পরিবহন ও সাধারণ নাগরিক যাতায়াতের ক্ষেত্রে সাময়িক বিঘ্ন ঘটালেও রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এটি তাদের অস্তিত্ব ও আদর্শ প্রচারের প্রধান ক্ষেত্র হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার স্বার্থে এই ধরনের কর্মসূচিতে প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহনশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

Keine Kommentare gefunden


News Card Generator