কালীগঞ্জে স্কুলের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে দোকান তোলার প্রস্তুতি… | আই নিউজ বিডি

কালীগঞ্জে স্কুলের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে দোকান তোলার প্রস্তুতি, দীর্ঘদিনের প্রশ্নের জবাব নেই?..

1753900756578223 avatar   
1753900756578223
কালীগঞ্জে স্কুলের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে দোকান তোলার প্রস্তুতি, দীর্ঘদিনের প্রশ্নের জবাব নেই?..
কালীগঞ্জে স্কুলের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে দোকান তোলার প্রস্তুতি, দীর্ঘদিনের প্রশ্নের জবাব নেই?..
ছবি: সংগৃহীত
কালীগঞ্জে স্কুলের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে দোকান তোলার প্রস্তুতি, দীর্ঘদিনের প্রশ্নের জবাব নেই?..

কালীগঞ্জে স্কুলের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে দোকান তোলার প্রস্তুতি, দীর্ঘদিনের প্রশ্নের জবাব নেই?
ইট এসেছে, বালুও। সীমানাপ্রাচীরের গায়ে স্তূপ হয়ে পড়ে আছে নির্মাণসামগ্রী। অপেক্ষা শুধু হাতুড়ির। কালীগঞ্জের আর আর এন পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে তবে কি এবার পাঠদানের চেয়ে পণ্যদানের আয়োজনই বড় হয়ে উঠছে? খবর, স্কুলের প্রধান ফটক থেকে পুকুরপাড়ের মার্কেট পর্যন্ত প্রাচীরের কিছু অংশ ভেঙে সেখানে দোকান তোলার প্রস্তুতি নিয়েছে খোদ স্কুল কর্তৃপক্ষ।

প্রাচীর কেবল ইটের গাঁথুনি নয়। সে এক নীরব প্রহরী। শিক্ষার্থীর #নিরাপত্তা আর বাইরের কোলাহলের মধ্যে একটা রেখা টেনে দেয় সে। 

সেই রেখা মুছে ফেললে স্কুলের নিরাপত্তাব্যবস্থাই ভেঙে পড়ার #আশঙ্কা, মনে করছেন অনেকে। 

স্কুলভবনের গা ঘেঁষে দোকান বসলে কী হবে, তার ছবিও অস্পষ্ট নয়। ক্লাসঘরের দেওয়াল ঘেঁষেই জমে উঠবে সার্বক্ষণিক #আড্ডাখানা। পড়ার ঘণ্টার পাশে চায়ের কাপের ঠুনঠুন, এ-ই কি তবে আধুনিক বিদ্যালয়ের নতুন সহাবস্থান?

'ওরা পারলে আমরা নয় কেন'

কর্তৃপক্ষের পক্ষে একটি যুক্তি অবশ্য ঘুরছে। স্কুলের জমিতে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে আগেই #পাঠাগার মার্কেট হয়েছে, সর্বশেষ হয়েছে পুকুরপাড়ের মার্কেট। প্রশাসন যদি পারে, স্কুল পারবে না কেন? 

যুক্তিটির ধার আছে বটে, কিন্তু সে ধার আসলে নিজের দিকেই। কারণ এতে স্বীকার করে নেওয়া হচ্ছে যে স্কুলের জমিতে বাণিজ্য আগেও হয়েছে, এবং সেই নজিরই আজকের #অজুহাত। 

অর্থাৎ অনিয়ম এখানে নিজেই নিজের প্রমাণপত্র। একটা ভুল যদি আরেকটা ভুলের বৈধতা হয়ে দাঁড়ায়, তবে আইনের বইয়ের আর প্রয়োজন কী?

এর পরের জটিলতা এই মার্কেটগুলোর তত্ত্বাবধান ঘিরে। স্কুলের জমিতে গড়া মার্কেট ও দোকানের তত্ত্বাবধায়ক পাঠাগার কর্তৃপক্ষ। পাঠাগার পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদাধিকার বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), আর সদস্যসচিব স্কুলের প্রধান শিক্ষক। ফলে তত্ত্বাবধানের দড়ি দুই হাতে ধরা। একদিকে প্রশাসন, অন্যদিকে স্কুল।

এই ব্যবস্থায় একটি সুবিধা আছে, অবশ্য শুধু সেই পক্ষের, যাঁরা প্রশ্ন এড়াতে চান। দুজনের হাতে যখন একটি জিনিসের দায়, তখন প্রশ্ন উঠলে একজন অন্যজনের দিকে আঙুল তুলতে পারেন। দায় ভাগ হয়ে হয়ে শেষে এমন জায়গায় পৌঁছায় যেখানে সে আর কারও নয়।

একই জমি, ভাড়ায় কত তফাত

হিসাবের খাতায় ঢুকলে তফাতটা আরও স্পষ্ট হয়। পাঠাগার মার্কেট গড়া হয়েছে দোকানমালিকদের নিজেদের টাকায়। সেই টাকা তাদের অগ্রিম বা অ্যাডভান্স সালামি হিসেবে জমা আছে, অর্থাৎ পাওনা। ভবিষ্যতে কেউ দোকান ছেড়ে দিলে নতুন ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে নিয়ে তা সমন্বয় করা হবে, না হলে পাঠাগার কর্তৃপক্ষ শোধ করবে।

মাসিক #ভাড়া জমা পড়ে পাঠাগারের #ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। বর্তমান বাজারদর মেনে প্রতিটি দোকানের ভাড়া বেঁধে দেওয়া হয়েছে, শুরু ৫ হাজার টাকা থেকে।

পুকুরপাড়ের মার্কেটের গল্পও প্রায় একই। বরাদ্দ পাওয়া মালিকদের টাকাতেই তৈরি, ভাড়া জমা সেই পাঠাগারেরই অ্যাকাউন্টে, দোকানপ্রতি ভাড়া ৫ হাজার টাকা।

কিন্তু ছবির উল্টো পিঠে আছে, এই একই পুকুরপাড়। সেখানে ৩০টিরও বেশি দোকান কয়েক যুগ ধরে #নামমাত্র ভাড়ায় বরাদ্দ হয়ে আছে। ভাড়া মাসে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। 

চালের দাম বেড়েছে, তেলের দাম বেড়েছে, বাজারের সবকিছুর দর চড়েছে। শুধু এই দোকানগুলোর ভাড়ার অঙ্কটাই যেন কালের নিয়ম অস্বীকার করে অচল। 

এগুলোর তত্ত্বাবধায়ক #স্কুল কর্তৃপক্ষ। একই জমিতেই দোকান। একটিতে ৫ হাজার, আরেকটিতে ৫০০। এই ব্যবধানের ব্যাখ্যা কে দেবেন?

বরাদ্দ যার, ব্যবসা কার?

আরও চাঞ্চল্যকর যে তথ্য, তা হলো সরকারি বরাদ্দ করা জমি বা দোকান #হস্তান্তর, কিংবা অন্য কাউকে ভাড়া দেওয়ার কোনও বিধান নেই। 

অথচ পুকুরপাড়ের পুরনো ও নতুন, দুই দফায় বরাদ্দ হওয়া দোকানের বেশির ভাগই নাকি #হাতবদল হয়েছে লাখ লাখ টাকায়। শুধু তা-ই নয়, কয়েক গুণ বেশি ভাড়ায় অন্যদের ভাড়াও দেওয়া হয়েছে।

এখানে এক অদ্ভুত পরিহাস। দোকান বরাদ্দ হয়েছিল ব্যবসা চালানোর জন্য। এখন বরাদ্দ-পাওয়া ব্যক্তিরা সেই দোকান ভাড়া দিয়েই বাড়তি আয় করছেন। ব্যবসার জায়গা নিজেই পরিণত হয়েছে ব্যবসার পণ্যে। বরাদ্দের মূল উদ্দেশ্যটাই এতে উল্টে গেছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, এই বরাদ্দ পাইয়ে দেওয়ার আড়ালে #সক্রিয় ছিল একটি চক্র। 

অভিযোগ, #ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় কয়েকজন দালাল নেতা, #সাংবাদিক পরিচয়ধারী কয়েকজন #দালাল এবং প্রশাসনের কিছু #অসাধু ব্যক্তি মিলে গড়া ওই চক্র বিপুল অর্থ হাতিয়েছে। 

আরও অভিযোগ, এই #লেনদেনে প্রশাসনের কর্তাদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রশ্ন উঠবেই, এত কিছুর পরেও কেউ মুখ খুলছেন না কেন? উত্তরটা সহজ। লেনদেন হয়েছে সমঝোতার ভিত্তিতে। যারা বরাদ্দ পেয়েছেন, তারা বিপদে পড়বেন বলে নীরব।

যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের নীরব থাকার কারণ বোঝাই যায়। এমন লেনদেনে দু'পক্ষই লাভবান, তাই দু'পক্ষই চুপ। 

এই নীরবতার একটা অর্থনীতি আছে, যেখানে অভিযোগের চেয়েও দামি মুদ্রা হলো মুখ বন্ধ রাখা। 

অবশ্য অভিযোগ এখনও অভিযোগই। কেউ দোষী কি না, তা তদন্ত ও প্রমাণের বিষয়।

যে প্রশ্নের উত্তর কখনও আসেনি

বিষয়গুলো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রকাশ্যে ও আড়ালে, পক্ষে ও বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সেই গুঞ্জন থামানোর একটি উপায় অবশ্য সবারই জানা। 

উপজেলা প্রশাসন ও স্কুল কর্তৃপক্ষ আলাদা করে নিজেদের অবস্থান জানাতে পারে। কী শর্তে দোকান বরাদ্দ হয়েছে, কত টাকা সালামি নেওয়া হয়েছে, ভাড়া কত, বরাদ্দ পেয়েছেন কারা, আর এসবের তদারকি কীভাবে হয়, এই পাঁচটি তথ্য জানালেই গুঞ্জনের অনেকটা মিটে যায়।

তবে আজ পর্যন্ত এই তথ্য কখনও জানানো হয়নি, আর ভবিষ্যতেও জানানো হবে বলে ভরসা কম। 

ফলে সমালোচনা চলবেই। 

যে প্রশ্নের উত্তর আসে না, সে প্রশ্ন ঘুরেফিরে আবার ফিরে আসে। এ ক্ষেত্রে প্রাচীর ভাঙা হোক বা না হোক, দেওয়াল একটা ঠিকই উঠে আছে: #স্বচ্ছতার অভাবের দেওয়াল।

সেটি ভাঙার হাতুড়ি এখনও কারও হাতে ওঠেনি।

কালীগঞ্জে স্কুলের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে দোকান তোলার প্রস্তুতি, দীর্ঘদিনের প্রশ্নের জবাব নেই?

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator