রানীশংকৈলে ১৯৭ পিস ইয়াবাসহ দম্পতি আটক: মাদক নির্মূলে জনসচেতনতার নজির | আই নিউজ বিডি

রানীশংকৈলে ১৯৭ পিস ইয়াবাসহ দম্পতি আটক: মাদক নির্মূলে জনসচেতনতার নজির..

হাসিনুজ্জামান মিন্টু avatar   
হাসিনুজ্জামান মিন্টু
রানীশংকৈলে ১৯৭ পিস ইয়াবাসহ দম্পতি আটক: মাদক নির্মূলে জনসচেতনতার নজির..
রানীশংকৈলে ১৯৭ পিস ইয়াবাসহ দম্পতি আটক: মাদক নির্মূলে জনসচেতনতার নজির..
ছবি: সংগৃহীত
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে স্থানীয় এলাকাবাসীর সহায়তায় ১৯৭ পিস ইয়াবাসহ ইসমাইল ও পারভিন নামের এক দম্পতিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।..

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার হোসেনগাঁও ইউনিয়নের কলিগাঁও ক্লাবমোড় এলাকায় গত শুক্রবার ৬ নভেম্বর মাদক কারবারের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ইসমাইল ও পারভিন নামের এক দম্পতিকে আটক করেছেন স্থানীয় সচেতন জনতা। দীর্ঘ সময় ধরে ওই এলাকায় মাদক বেচাকেনার গুঞ্জন থাকলেও এবারই প্রথম হাতেনাতে ইয়াবাসহ তাদের আটক করা সম্ভব হলো। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন সন্দেহভাজন ওই দম্পতিকে ঘোরাফেরা করতে দেখে স্থানীয়রা তাদের গতিরোধ করেন এবং তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে ১৯৭ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা ছাড়াই আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে আটককৃতদের রাণীশংকৈল থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধের একটি বলিষ্ঠ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আটককৃত ইসমাইল ও পারভিনের বিরুদ্ধে স্থানীয় ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই দম্পতি এলাকায় মাদকের একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন, যার ফলে তরুণ প্রজন্ম মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মাদক কারবারিরা কৌশলে বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা সরবরাহ করে আসছিল এবং পুলিশের নজর এড়িয়ে বারবার পার পেয়ে যাচ্ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, কলিগাঁও এলাকায় মাদক কারবারিদের আনাগোনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত হচ্ছিল এবং অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ কাজ করছিল। স্থানীয়দের এই সম্মিলিত উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষ এখন আর মাদক কারবারিদের কোনো ছাড় দিতে নারাজ এবং তারা নিজেদের এলাকাকে মাদকমুক্ত রাখতে বদ্ধপরিকর।

ঘটনার প্রেক্ষিতে রাণীশংকৈল থানা পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান করা হয়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন থাকলেও স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন যদি নিয়মিত টহল বৃদ্ধি করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে, তবেই এই ধরণের মাদক কারবারিদের শিকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা বা গাফিলতির সুযোগ নিয়ে মাদক কারবারিরা যেন পুনরায় মাঠে নামতে না পারে, সেজন্য কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন সমাজ। মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের খুঁজে বের করতে পুলিশের পক্ষ থেকে অধিকতর তদন্তের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলেও মনে করছেন স্থানীয়রা।

এই দম্পতির আটকের ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং মাদকের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের কঠোর অবস্থানের বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। তবে কেবল একটি ঘটনার মাধ্যমে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়, বরং সমাজ থেকে এই অভিশাপ দূর করতে তৃণমূল পর্যায়ের সামাজিক সচেতনতা ও প্রশাসনের কঠোর নজরদারির মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি। রাণীশংকৈলের এই ঘটনাটি অন্যান্য এলাকার মানুষের জন্যও একটি বার্তা, যেখানে সমাজবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়ালে অপরাধীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ভবিষ্যতে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পেলে এবং আইনি প্রক্রিয়ার সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে ঠাকুরগাঁওয়ের জনপদ মাদকমুক্ত রাখা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

Keine Kommentare gefunden


News Card Generator