পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এসব মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও কারবারিদের গ্রেপ্তার করা হয়। মাদকবিরোধী একাধিক অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল হালিম।
মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি চুরি, ডাকাতি ও চোরাচালান প্রতিরোধেও অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। ছয় মাসে বিভিন্ন মামলায় মোট ৭২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে নিয়মিত মামলার আসামি ২৩৬ জন, জিআর পরোয়ানাভুক্ত ৭৫ জন, সিআর পরোয়ানাভুক্ত ৮৬ জনসহ বিভিন্ন মামলার ও পরোয়ানাভুক্ত আসামি রয়েছেন।
এ সময়ে ১৩৬টি চুরির ঘটনায় চুরি যাওয়া বিভিন্ন যানবাহন, লোহার রড, মোবাইল ফোন, স্বর্ণের চেইন ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ডাকাতির ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত বৈদ্যুতিক তার উদ্ধার করা হয়েছে।
চোরাচালানবিরোধী সাতটি মামলায় বিপুল পরিমাণ পণ্য ও যানবাহন জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৭ হাজার ৫৫০ কেজি প্লাস্টিকের কাঁচামাল, ৪৮ হাজার ৯৯৫ কেজি অ্যাসিড অয়েল ও ক্রুড গ্লিসারিন, ৩০১ বস্তা ইউরিয়া সার, ১৮০টি ভারতীয় শাড়ি, ১৯টি গরু ও দুটি পিকআপ।
এ ছাড়া অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, নয় রাউন্ড গুলি, একটি ফোল্ডিং ছুরি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। চারটি হত্যা মামলায় ছয় পলাতক আসামিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এবিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেন, মাদক নির্মূলে জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে কমিউনিটি পুলিশিং ও বিট পুলিশিং সভা করে মাদক, চুরি ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করা হচ্ছে। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
একের পর এক এমন ধারাবাহিক অভিযানের কারণে এলাকায় আগের তুলনায় অপরাধ কমেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা ও শিক্ষক প্রতিনিধিরা।