৭ নভেম্বর ও জিয়াউর রহমানের নেতৃত্ব: বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের নতুন ইতিহাস | আই নিউজ বিডি

৭ নভেম্বর ও জিয়াউর রহমানের নেতৃত্ব: বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের নতুন ইতিহাস..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
৭ নভেম্বর ও জিয়াউর রহমানের নেতৃত্ব: বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের নতুন ইতিহাস..
৭ নভেম্বর ও জিয়াউর রহমানের নেতৃত্ব: বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের নতুন ইতিহাস..
ছবি: সংগৃহীত
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব কেবল জিয়াউর রহমানের জীবনকেই বদলে দেয়নি, বদলে দিয়েছিল বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ। কীভাবে এই ঐতিহাসিক দিনটি দেশগঠন ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের সূচনা করেছিল?..

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাবলী স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মোড় এনে দিয়েছিল এই দিনে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে আসেন এবং সংকটময় মুহূর্তে জাতির কাণ্ডারির ভূমিকা গ্রহণ করেন সেনা কর্মকর্তা হিসেবে চীনে সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করলেও তিনি কোনো শ্রেণি-সংগ্রামের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না পরবর্তীকালে ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠন করে তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন

তৎকালীন ঢাকা শহরের স্টেশন কমান্ডার অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ হামিদের বিবরণ অনুযায়ী, ৭ নভেম্বর মধ্যরাতে এক কমান্ডো অভিযানে মুক্ত হওয়ার পর ভোরে সেনাসদস্যরা ট্রাকে উঠে স্লোগান দিতে দিতে রাজপথে নেমে আসেন মুহূর্তের মধ্যেই সেই ঘটনা সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবে রূপ নেয় এবং শহরের রাস্তাগুলো "সিপাহী-জনতা ভাই ভাই" স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে দেশে বিরাজমান বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর আহ্বানে জিয়াউর রহমান প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে সামরিক আইন প্রত্যাহার করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেন

জিয়াউর রহমান দেশের ভূরাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় পাহাড়ি ও সমতলের সব ধর্ম, বর্ণ ও নৃগোষ্ঠীর মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে 'বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ'-এর ধারণা সামনে আনেন ঐতিহাসিকভাবে বাঙালি জাতীয়তাবাদী ভাবধারা প্রধানত নির্দিষ্ট ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় এবং তাতে বাঙালি মুসলমানদের সাংস্কৃতিক স্বকীয়তার পূর্ণ প্রতিফলন না থাকায়, তিনি সকল নাগরিককে একটি স্বতন্ত্র জাতীয় পরিচয়ে সুসংগঠিত করার উদ্যোগ নেন তাঁর ঘোষিত এই জাতীয়তাবাদী দর্শনে কোনো ধর্মীয় বা আঞ্চলিক বিভেদের স্থান ছিল না, বরং স্বাধীন বাংলাদেশের সকল নাগরিকের সমান অধিকারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল

১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল থেকে ১৯৮১ সালের ৩০ মে পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনাকালে জিয়াউর রহমান কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প ও বাণিজ্য খাতে নানা সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ করেন কৃষি উৎপাদনে সবুজ বিপ্লব আনতে, সেচের পানি সংরক্ষণ ও মৎস্য চাষ বৃদ্ধিতে তাঁর দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে 'গ্রাম সরকার' উদ্যোগ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রতিবেশী ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে তিনি দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) গঠনের ঐতিহাসিক উদ্যোগ নেন, যা চীনসহ বিশ্ব দরবারে ব্যাপক প্রশংসিত হয়

জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বাকশাল উত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনা ভারত থেকে দেশে প্রত্যাবর্তন করেন এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পুনর্গঠিত হয় পরবর্তীতে তাঁর সামরিক শাসন প্রত্যাহার, বহুদলীয় রাজনীতি ফিরিয়ে আনা এবং ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের সময়ে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন দেশের রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে বর্তমানে জিয়াউর রহমানের পুত্র তারেক রহমানের নেতৃত্বে খাল খনন কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ এবং সার্ক ভাবনাকে এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা গ্রামীণ সমাজ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে ইতিবাচক সাড়া ফেলছে

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator