ডলারের লাগাম টানতে রিজার্ভ থেকে আরও ১০ কোটি ডলার বিক্রি কেন্দ্রীয়… | আই নিউজ বিডি

ডলারের লাগাম টানতে রিজার্ভ থেকে আরও ১০ কোটি ডলার বিক্রি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
ডলারের লাগাম টানতে রিজার্ভ থেকে আরও ১০ কোটি ডলার বিক্রি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের..
ডলারের লাগাম টানতে রিজার্ভ থেকে আরও ১০ কোটি ডলার বিক্রি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের..
ছবি: সংগৃহীত
ডলারের ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা মেটাতে এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে রিজার্ভ থেকে আরও ১০ কোটি ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি ও রেমিটেন্সের গতিপ্রকৃতির মধ্যে এই পদক্ষেপ অর্থনীতির জন্য কী বার্তা দিচ্ছে?..

ডলারের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে রিজার্ভ থেকে আরও ১০ কোটি ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক বুধবার নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১২৪ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ১২৪ টাকা ৩৫ পয়সা দরে কয়েকটি ব্যাংকের কাছে এই বিদেশি মুদ্রা বিক্রি করা হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, আমদানি ব্যয়ের চাপ, বিশেষত জ্বালানি তেল ও এলপিজির উচ্চমূল্য এবং রমজান মাস সামনে রেখে প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলার কারণে ডলারের চাহিদা বেড়েছে এই বর্ধিত চাহিদা মেটাতেই রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করা হচ্ছে এর আগে গত সপ্তাহে নিলামের মাধ্যমে ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার বিক্রি করা হয়েছিল, যা দীর্ঘদিন পর এ ধরনের প্রথম নিলাম ছিল মঙ্গলবারও ১০ কোটি ডলার বিক্রির জন্য নিলাম ডাকা হলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করা হয়

এক দশক আগেও বাংলাদেশ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি রিজার্ভ নিয়ে 'মধুর সমস্যায়' ছিল তবে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বাড়ায় আমদানি খরচ বেড়ে যায় এবং রিজার্ভ কমতে থাকে এর ফলে ২০২১ সালের আগস্টে রেকর্ড ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়ানো রিজার্ভ ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে ২৬ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমান গভর্নর মোস্তাকুর রহমান রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি না করার নীতি গ্রহণ করেন, যার ফলে প্রবাসীদের রেমিটেন্সের উল্লম্ফনে ডলারের সরবরাহ বেড়েছিল এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কেনা শুরু করেছিল

গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৬ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার কিনেছিল, যার ফলে রিজার্ভ পুনরায় বাড়তে শুরু করে ৩০ জুন, ২০২৬ তারিখে বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩২ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার এবং গ্রস হিসাবে ৩৭ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার সর্বশেষ ৪ নভেম্বর, ২০২৬ তারিখে বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ৩১ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার এবং গ্রস হিসাবে ৩৬ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার ছিল আগামী সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসের আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ কিছুটা কমবে তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও ডলারের দাম কমার প্রবণতা এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতির আশাবাদ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপ সত্ত্বেও আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের বিনিময় হার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখাচ্ছে গত দুই দিন ধরে প্রতি ডলার ১২৪ টাকা ৩৫ পয়সা দরে বিক্রি হয়েছে, যা এর আগের দুই দিন ছিল ১২৪ টাকা ৩০ পয়সা অক্টোবরের শুরুতে এই হার ছিল ১২৩ টাকা খোলাবাজারে বা কার্ব মার্কেটেও ডলারের দাম বাড়ছে; বুধবার রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের মানি এক্সচেঞ্জগুলোতে ১২৮ টাকা ১০ পয়সা দরে ডলার বিক্রি হয়েছে এবং কেনা হয়েছে ১২৭ টাকা ১০ পয়সায়

没有找到评论


News Card Generator