আমদানি ব্যয়ের চাপে ডলারের দর ঊর্ধ্বমুখী, অস্থির বৈদেশিক মুদ্রাবাজার | আই নিউজ বিডি

আমদানি ব্যয়ের চাপে ডলারের দর ঊর্ধ্বমুখী, অস্থির বৈদেশিক মুদ্রাবাজার..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
আমদানি ব্যয়ের চাপে ডলারের দর ঊর্ধ্বমুখী, অস্থির বৈদেশিক মুদ্রাবাজার..
আমদানি ব্যয়ের চাপে ডলারের দর ঊর্ধ্বমুখী, অস্থির বৈদেশিক মুদ্রাবাজার..
ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানিসহ আমদানি ব্যয় বাড়ায় ডলারের জোগান কমছে, ফলে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আন্তঃব্যাংকে ডলারের দর বেড়ে ১২৪ টাকা ৩৫ পয়সায় পৌঁছেছে। পরিস্থিতি সামলাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার বিক্রির নিলাম বাতিল হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এই অস্থিরতার ক..

জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে সেই অনুপাতে ডলারের জোগান না বাড়ায় দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকা ডলারের বিনিময় হারে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে গতকাল মঙ্গলবার আন্তঃব্যাংকে ডলারের দর বেড়ে ১২৪ টাকা ৩৫ পয়সায় উঠেছে গত দুই দিন ধরে অনেক ব্যাংক ১২৪ টাকা ৭০ পয়সা পর্যন্ত দরে রেমিট্যান্স কিনেছে, যা বাজারের অস্থিরতাকেই নির্দেশ করে

এই পরিস্থিতি সামাল দিতে গতকাল ১০ কোটি ডলার বিক্রির একটি নিলাম ডেকেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ না জানিয়েই নিলামটি বাতিল করা হয় নিলামে অংশ নেওয়ার জন্য ব্যাংকগুলোকে দুপুর আড়াইটার মধ্যে উন্মুক্ত দর পদ্ধতিতে প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছিল, যেখানে একটি ব্যাংক সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার এবং সর্বনিম্ন ৫০ লাখ ডলার কিনতে পারতো তবে দুপুর ৩টায় জানানো হয়, নিলাম বাতিল করা হয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানার একটি ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, নিলাম বাতিলের কারণ তাদের জানানো হয়নি এবং এই পরিস্থিতি ডলার বাজারকে আরও অস্থিরতার মধ্যে ফেলতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, জ্বালানি সংকট মেটাতে স্পট মার্কেট থেকে উচ্চ দরে এলএনজি কিনতে হওয়ায় ডলারের চাহিদা বেড়ে দর কিছুটা বেড়েছে

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দিন ধরে আন্তঃব্যাংকে ডলারের দর ১২৪ টাকা ৩০ পয়সার বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে এর আগে গত অক্টোবরের শুরুতে ডলারের দর ১২৩ টাকা থেকে বাড়তে বাড়তে শেষ কর্মদিবসে ১২৩ টাকা ৯৯ পয়সা হয় একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আন্তঃব্যাংকে ডলারের দর ১২১ থেকে ১২২ টাকা ৩০ পয়সার মধ্যে স্থিতিশীল ছিল জাতীয় নির্বাচনের পর অর্থনীতিতে গতিশীলতা আসবে এমন ধারণায় দর সামান্য বাড়তে শুরু করে চলতি বছরের মার্চের শুরুতে আন্তঃব্যাংকে ডলারের দর একটু একটু করে বেড়ে ১২ মার্চ ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা হয় এবং ২৫ জুন পর্যন্ত একই দরে বেচাকেনা হয় এরপর থেকে ডলারের দর ক্রমাগত বাড়ছে বেসরকারি একটি ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের প্রধান জানান, এলএনজির দরবৃদ্ধির কারণে ডলারের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে এবং রপ্তানি, রেমিট্যান্স ও উন্নয়ন সহযোগীদের বিদেশি ঋণ ছাড় সে হারে না বাড়ায় ডলারের চাহিদা বেড়ে দর বাড়ছে তিনি ২০২১-২২ সালের মতো পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা প্রকাশ করেন, যখন ডলারের দর ৮৪ টাকা থেকে এক বছরের মধ্যে ১২০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল

এদিকে, ডলারের দর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ার প্রবণতাও থমকে গেছে গতকাল দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার, যা গত ১ সেপ্টেম্বরের ৩৭ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে কম আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম৬ অনুযায়ী, রিজার্ভ নেমেছে ৩১ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে, যা গত ১ সেপ্টেম্বরের ৩২ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে কম বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই-অক্টোবর সময়ে প্রবাসীরা ১ হাজার ১৪৬ কোটি ডলার সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি রপ্তানি আয় ৬ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭০৪ কোটি ডলার দেশে এসেছে তবে, গত অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই-আগস্টে আমদানি ১২ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২২০ কোটি ডলার খরচ হয়েছে, যেখানে পেট্রোলিয়াম আমদানিতে ব্যয় দ্বিগুণ হয়ে ২৪৯ কোটি ডলারে উঠেছে এই সামগ্রিক পরিস্থিতি বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে ডলারের দর বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে

Hiçbir yorum bulunamadı


News Card Generator