রাঙ্গুনিয়ায় বসতঘরে দুর্ধর্ষ চুরি: পুলিশের অসহযোগিতায় বাড়ছে… | আই নিউজ বিডি

রাঙ্গুনিয়ায় বসতঘরে দুর্ধর্ষ চুরি: পুলিশের অসহযোগিতায় বাড়ছে জননিরাপত্তার সংকট..

Md. Nezam Uddin avatar   
Md. Nezam Uddin
রাঙ্গুনিয়ায় বসতঘরে দুর্ধর্ষ চুরি: পুলিশের অসহযোগিতায় বাড়ছে জননিরাপত্তার সংকট..
রাঙ্গুনিয়ায় বসতঘরে দুর্ধর্ষ চুরি: পুলিশের অসহযোগিতায় বাড়ছে জননিরাপত্তার সংকট..
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বসতঘরের দরজা ভেঙে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ মূল্যবান মালামাল চুরির ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার চেয়ে পুলিশের দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও মেলেনি কোনো প্রতিকার।..

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ৩ নম্বর স্বনির্ভর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের রফিক ড্রাইভারের বাড়িতে গত ১ নভেম্বর রাতে এক দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা বসতঘরের পেছনের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে টেলিভিশন, বৈদ্যুতিক ফ্যান, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ লক্ষাধিক টাকার মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনার সময় গৃহকর্ত্রী মোসাম্মৎ মনি আক্তার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে পিত্রালয়ে অবস্থান করায় বাড়িটি জনশূন্য ছিল। স্থানীয় প্রতিবেশীরা দরজা ভাঙার শব্দ শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এলেও অপরাধীদের ততক্ষণে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনাটি রাঙ্গুনিয়ার জনবসতিপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম দুর্বলতাকে জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে, যেখানে অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘর ভেঙে লুটতরাজ চালিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যেতে সক্ষম হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় এক ধরনের আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ মনি আক্তারের অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার পর তিনি প্রতিকার ও আইনি সুরক্ষার আশায় রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় যোগাযোগ করেছিলেন। তবে অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, পুলিশ তাঁর অভিযোগ গ্রহণ করা তো দূরের কথা, কোনো সাধারণ ডায়েরি বা জিডি পর্যন্ত নথিভুক্ত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ভুক্তভোগী মনি আক্তার আক্ষেপ করে জানান, সহায়-সম্বল হারিয়ে তিনি এখন চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। প্রতিবেশীদের ভাষ্যমতে, ঘটনার সময় শব্দ শুনে তারা এগিয়ে এলেও দুর্বৃত্তদের সংখ্যা ও তাদের গতিবিধি ছিল অত্যন্ত সন্দেহজনক। ভুক্তভোগী পরিবারটির দাবি, পুলিশের এই রহস্যজনক নীরবতা অপরাধীদের আরও বেশি উৎসাহিত করছে। আইনি সহায়তা না পাওয়ায় পরিবারটি কেবল অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখেই পড়েনি, বরং তারা এখন নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে পুলিশের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলছেন। ভুক্তভোগীদের মতে, থানায় অভিযোগ গ্রহণ না করার অর্থ হলো অপরাধীদের পরোক্ষভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া, যা সাধারণ মানুষের আইনি অধিকারের চরম লঙ্ঘন।

থানায় অভিযোগ গ্রহণে পুলিশের এই অনীহা বা অস্বীকৃতির বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মহলে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। দায়িত্বশীল সূত্র থেকে কোনো সদুত্তর না মেলায় পুলিশের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, যদি অপরাধীরা চিহ্নিত না হয় এবং পুলিশি নজরদারি বৃদ্ধি না পায়, তবে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকায় চুরির প্রবণতা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনার কোনো তদন্ত শুরু হয়নি এবং কোনো সন্দেহভাজনকেও আটকের খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট মহলের পক্ষ থেকে অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা সাধারণ মানুষের মধ্যে এই বার্তা দিচ্ছে যে, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর বিচার পাওয়ার পথ ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে, যা একটি সভ্য সমাজের জন্য অশনিসংকেত।

রাঙ্গুনিয়ার এই ঘটনাটি কেবল একটি চুরির বিষয় নয়, বরং এটি স্থানীয় পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সামগ্রিক অবনতির একটি প্রতিফলন। বসতঘরে দুর্ধর্ষ চুরির পর পুলিশের অসহযোগিতা ভুক্তভোগী পরিবারকে দীর্ঘমেয়াদী মানসিক ট্রমা এবং নিরাপত্তাহীনতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের অবিলম্বে এই পরিস্থিতির দায়ভার গ্রহণ করে যথাযথ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া প্রয়োজন। যদি দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের ব্যবস্থা না করা হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে পরিবহন ও বসতি এলাকায় অপরাধীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ার বাস্তবায়নই এখন সময়ের দাবি, অন্যথায় সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা পুরোপুরি হুমকির মুখে পড়বে।

Walang nakitang komento


News Card Generator