জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত… | আই নিউজ বিডি

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত বিএনপির এলিজা জামান..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত বিএনপির এলিজা জামান..
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত বিএনপির এলিজা জামান..
ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য ঘোষিত সংরক্ষিত নারী আসনে একক প্রার্থী হিসেবে এলিজা জামানকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।..

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এলিজা জামান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সোমবার নির্বাচন কমিশন এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা মঈনুদ্দীন খানের স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় পর্যন্ত এলিজা জামান তার মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় এবং অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় জাতীয় সংসদ সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচন আইন-২০০৪-এর বিধান অনুযায়ী তাকে চূড়ান্ত বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে আগামী ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নির্ধারিত ভোটগ্রহণের আর কোনো প্রয়োজন থাকছে না এবং আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। গত ২৬ অক্টোবর এলিজা জামান আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন এবং ২৭ অক্টোবর যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন। এরপর ২৯ অক্টোবর আপিল নিষ্পত্তি শেষে চূড়ান্ত তালিকায় কেবল তার নামই অবশিষ্ট থাকায় এই উপনির্বাচনের সমাপ্তি ঘটে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উপনির্বাচনটি মূলত বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রেক্ষাপটে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনার পর বিতর্কিত ভূমিকার কারণে সাবেক সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিল বিএনপি হাইকমান্ড। ওই ঘটনার জেরে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনে এবং সংসদীয় দলের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে দলটির নীতিনির্ধারকরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন প্রতিনিধি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেন। ভুক্তভোগী ও দলীয় কর্মীদের একাংশের অভিযোগ ছিল, অতীতের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড দলের জনসমর্থনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই প্রেক্ষাপটে এলিজা জামানের মনোনয়নকে দলের পক্ষ থেকে একটি শুদ্ধি অভিযান ও স্বচ্ছ নেতৃত্বের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এলিজা জামান বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং পিরোজপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া বরিশাল বিভাগে মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সংসদীয় কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে দলীয় সূত্রে আশা করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আইন অনুযায়ী একজন মাত্র প্রার্থী থাকায় ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ ছাড়াই নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা মঈনুদ্দীন খান স্পষ্ট করেছেন যে, আইনগত কোনো জটিলতা না থাকায় এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ায় কমিশন বিজয়ীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে বাধ্য। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদিও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের অনুপস্থিতি গণতন্ত্রের চর্চার ক্ষেত্রে একটি সীমাবদ্ধতা হিসেবে বিবেচিত হয়, তবে বর্তমান আইনি কাঠামো অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত শতভাগ নিয়মমাফিক। বিএনপি নেতৃত্বাধীন এই উপনির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ বা বিদ্রোহী প্রার্থীর উপস্থিতি না থাকা দলটির বর্তমান সাংগঠনিক শৃঙ্খলার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। প্রশাসনিক পর্যায়ে এই নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর এখন এলিজা জামানের শপথ গ্রহণের অপেক্ষা মাত্র।

পরিশেষে, এলিজা জামানের এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের শূন্যতা পূরণ হতে যাচ্ছে। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এবং সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রাপ্ত মাদার তেরেসা স্বর্ণপদক বা শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা আগামী দিনে সংসদীয় বিতর্কে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, তা এখন দেখার বিষয়। তবে এই নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট এলাকায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে, আগামী দিনে সংসদীয় কার্যক্রমে এলিজা জামান তার দায়িত্ব পালনে কতটা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারেন, তার ওপরই নির্ভর করবে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের পরবর্তী ধাপ এবং জনমানুষের আস্থা। এই উপনির্বাচনটি মূলত একটি শূন্যপদ পূরণের প্রক্রিয়া হলেও, এটি একই সাথে বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক কৌশলের একটি বড় পরীক্ষা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

Nema komentara


News Card Generator