ঢাকা সাভার আমিন বাজারে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিরপুর মফিদ-ই-আম স্কুল অ্যান্ড কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার হতাশাজনক ফলাফলকে কেন্দ্র করে ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠন স্টুডেন্ট কমিউনিটি ও গ্রিন আমিন বাজার।২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে মোট ১৮৪ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ৪৯ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ১৩৫ জন। পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৬ শতাংশে।এমন ফলাফলে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো ও মিষ্টিমুখ করানোর আয়োজন করেন সংগঠন দুটির সদস্যরা। আয়োজকদের ভাষ্য, এটি মূলত একটি প্রতীকী ও নীরব প্রতিবাদ। ফুল দিয়ে সম্মান জানানোর মাধ্যমে শিক্ষকদের নিজেদের দায়িত্ব ও প্রতিষ্ঠানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আত্মসমালোচনা করার আহ্বান জানানোই ছিল তাদের উদ্দেশ্য।সাবেক শিক্ষার্থীদের মতে, একসময় মিরপুর মফিদ-ই-আম স্কুল অ্যান্ড কলেজ এলাকায় একটি সুনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান ও পরীক্ষার ফলাফলও ছিল সন্তোষজনক। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় নানা অব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার পরিবেশ ও সুনাম ক্রমেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ প্রায় তিন বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো স্থায়ী অধ্যক্ষ নেই। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। এ ছাড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় নানা ত্রুটি ও অসংগতি রয়েছে বলে দাবি সাবেক শিক্ষার্থীদের। এসব সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন সময়ে ছাত্রসমাজের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।এ ছাড়াও প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন সাবেক শিক্ষার্থীরা। তাদের ভাষ্য, স্কুল ও কলেজ শাখার জন্য পৃথক শিক্ষক না থাকায় মূলত স্কুল শাখার শিক্ষকদের দিয়েই কলেজের পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার মান ও পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে তারা মনে করেন।তবে এই খারাপ ফলাফলের দায় শুধু শিক্ষকদের ওপর চাপাতে চান না সাবেক শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অনীহা, অভিভাবকদের অসচেতনতা এবং সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতাও এই ফলাফলের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক পরিবেশ, পাঠদানের মান ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের দায়িত্বও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তারা।সাবেক শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য কাউকে ব্যক্তিগতভাবে হেয় করা নয়; বরং শিক্ষকদের দায়িত্ববোধ জাগ্রত করা এবং প্রতিষ্ঠানের হারানো ঐতিহ্য ও সুনাম ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন করা।তারা আরও বলেন, আমিন বাজার এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য এই প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এলাকায় অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে এর মানোন্নয়ন শুধু শিক্ষকদের একার দায়িত্ব নয়; বরং শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, পরিচালনা পর্ষদ, সাবেক শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটিকে আবারও সাফল্যের ধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে।সাবেক শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, এই প্রতীকী প্রতিবাদ সংশ্লিষ্টদের আত্মোপলব্ধির সুযোগ তৈরি করবে এবং দ্রুত প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তারা চান, হতাশাজনক ফলাফলের পুনরাবৃত্তি নয়, বরং আগামীর সাফল্যের মধ্য দিয়ে ফিরে আসুক মিরপুর মফিদ-ই-আম স্কুল অ্যান্ড কলেজের হারানো গৌরব।
HSC পরীক্ষায় ২৬ শতাংশ পাস, ১৩৫ জন ফেল: শিক্ষকদের ফুল দিয়ে নীরব… | আই নিউজ বিডি
HSC পরীক্ষায় ২৬ শতাংশ পাস, ১৩৫ জন ফেল: শিক্ষকদের ফুল দিয়ে নীরব প্রতিবাদ সাবেক শিক্ষার্থীদের..
ছবি: সংগৃহীত
No se encontraron comentarios