মানবিক সেবার অঙ্গীকারে ১৮ বছরে পদার্পণ সামাজিক সংগঠন ‘প্রয়াস’ | আই নিউজ বিডি

মানবিক সেবার অঙ্গীকারে ১৮ বছরে পদার্পণ সামাজিক সংগঠন ‘প্রয়াস’..

Akhter Hossain avatar   
Akhter Hossain
মানবিক সেবার অঙ্গীকারে ১৮ বছরে পদার্পণ সামাজিক সংগঠন ‘প্রয়াস’..
মানবিক সেবার অঙ্গীকারে ১৮ বছরে পদার্পণ সামাজিক সংগঠন ‘প্রয়াস’..
ছবি: সংগৃহীত
সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ১৭ বছর অতিবাহিত করে ১৮তম বর্ষে পা রাখল চট্টগ্রামের মানবিক সংগঠন ‘প্রয়াস’, যেখানে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও সেবার পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্যে বিশেষ কেবিনেট সভা অনুষ্ঠিত হয়ে..

চট্টগ্রামের সামাজিক ও মানবিক অঙ্গনে দীর্ঘ ১৭ বছরের পথচলা শেষে ১৮তম বর্ষে পদার্পণ করল সেবামূলক সংগঠন ‘প্রয়াস’। ‘প্রয়াস মানুষের জন্য, প্রয়াস মানুষের কথা বলে’—এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে গত ৩১ অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যায় নগরীর বনজৌরি রেস্টুরেন্টে সংগঠনটির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেবিনেট সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার মূল লক্ষ্য ছিল বিগত ১৭ বছরের অর্জিত অভিজ্ঞতা ও কর্মপদ্ধতির পর্যালোচনার পাশাপাশি আগামী দিনের মানবিক কার্যক্রমের রূপরেখা নির্ধারণ করা। সুবিধাবঞ্চিত ও অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সামাজিকভাবে দায়িত্ব পালনের যে প্রতিশ্রুতি নিয়ে সংগঠনটি যাত্রা শুরু করেছিল, তা দীর্ঘ সময়ে কতটা সফল হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এর পরিধি কতটুকু বিস্তৃত করা সম্ভব, তা নিয়ে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। মূলত মানবিক মূল্যবোধকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যেই এই বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়েছে, যা সংগঠনের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

দীর্ঘ এই পথচলায় সংগঠনের উপদেষ্টা পরিষদ, পরিচালক পরিষদ এবং কার্যকরী পরিষদের সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন, যার প্রতিফলন ঘটেছে সভার আলোচনায়। ভুক্তভোগী ও সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য গৃহীত আগের প্রকল্পগুলোর বাস্তব প্রভাব এবং বর্তমানে তাদের জীবনমান উন্নয়নে সংগঠনটি কী ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে, তা উঠে আসে সদস্যদের বক্তব্যে। সংগঠনের নীতিনির্ধারকরা স্পষ্ট করেছেন যে, কেবল ত্রাণ সহায়তা নয় বরং সামাজিকভাবে মানুষকে স্বাবলম্বী করে তোলার বিষয়টি এখন তাদের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। সংগঠনের একজন উপদেষ্টা উল্লেখ করেন যে, গত ১৭ বছরের অভিজ্ঞতা তাদের শিখিয়েছে কীভাবে সীমাবদ্ধ সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে মানুষের কল্যাণে কাজ করা যায়। সদস্যদের মতে, মানবিক সেবার ক্ষেত্রে আর্থিক সীমাবদ্ধতার চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ হলো সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বিত উদ্যোগের অভাব, যা কাটিয়ে ওঠার জন্য সংগঠনটি এখন ডিজিটাল ও আধুনিক কর্মপদ্ধতি গ্রহণের দিকে মনোনিবেশ করছে।

কেবিনেট সভায় আগত বক্তারা একটি মানবিক সমাজ বিনির্মাণে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণে সংশ্লিষ্ট সকলের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং মাঠপর্যায়ে মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে তাদের সক্রিয় উপস্থিতি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন হিসেবে ‘প্রয়াস’ যে দায়িত্ব পালন করছে, তা ভবিষ্যতে আরও গতিশীল করতে নতুন প্রজন্মের স্বেচ্ছাসেবকদের যুক্ত করার পরিকল্পনাও সভায় ব্যক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে দুর্যোগকালীন সহায়তা ও শিক্ষা বিস্তারের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে সংগঠনটি তাদের নজরদারি বাড়ানোর প্রতিজ্ঞা করেছে। সভায় উপস্থিত শুভাকাঙ্ক্ষী ও কর্মীরা আগামী দিনে সংগঠনটির মানবিক কার্যক্রমকে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন, যা মূলত একটি শক্তিশালী সামাজিক সেতুবন্ধন তৈরির ইঙ্গিত দেয়।

পরিশেষে, ১৮তম বছরে পদার্পণকারী এই সংগঠনের এই যাত্রা কেবল একটি মাইলফলক নয়, বরং চট্টগ্রামের সামাজিক উন্নয়ন খাতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিতবাহী। দীর্ঘমেয়াদী এই সেবামূলক কার্যক্রম যদি তাদের লক্ষ্য অনুযায়ী বাস্তবায়িত হয়, তবে তা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে। প্রতিকূলতা জয় করে মানবিকতার আলো সমাজের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার যে অঙ্গীকার ‘প্রয়াস’ গ্রহণ করেছে, তা আগামী দিনে অন্যান্য সামাজিক সংগঠনের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। সংগঠনের সকল স্তরের কর্মীদের নিষ্ঠা ও সততা বজায় থাকলে, এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর পরিসরে অসহায় মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

没有找到评论


News Card Generator