চাঁদপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং আব্দুল গফুর মিয়াজী বাড়ির কৃতি সন্তান সাবেক সেনা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান মিয়াজী গত কয়েকদিন আগে পরলোকগমন করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে চাঁদপুরের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে এক গভীর শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিক তথ্য অনুযায়ী, যথাযথ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ও জানাজার নামাজ শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। জানাজায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সমাজসেবক, সাবেক সহকর্মী এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দীর্ঘদিন ধরে জনসেবায় নিয়োজিত থাকা এই ব্যক্তি পেশাগত জীবনে যেমন সততার স্বাক্ষর রেখেছিলেন, তেমনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ছিলেন অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও নিবেদিতপ্রাণ। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছেন।
মরহুম আব্দুর রহমান মিয়াজীর মৃত্যুতে কেবল তাঁর পরিবার নয়, বরং তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী ও স্থানীয় শুভাকাঙ্ক্ষীরা গভীরভাবে শোকাহত। দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, তিনি কেবল একজন রাজনৈতিক সংগঠকই ছিলেন না, বরং একজন মানবিক মানুষ হিসেবেও সাধারণ মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়াতেন। তাঁর জানাজায় উপস্থিত হওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আব্দুর রহমান মিয়াজী তাঁর চারিত্রিক দৃঢ়তা ও অমায়িক ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তাঁর অবদান ও কর্মতৎপরতা স্থানীয়দের মাঝে দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। তাঁর চলে যাওয়াকে স্থানীয় বিএনপি ও তার বলয়ের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং সামাজিক সংগঠনের নেতারা তাঁর মৃত্যুতে শোকবার্তা প্রদান করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনের শীর্ষ ব্যক্তিরা তাঁর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে শান্তনা জ্ঞাপন করেছেন। জানাজা পরবর্তী আলোচনায় বক্তারা তাঁর কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতে তাঁর আদর্শকে ধারণ করার আহ্বান জানান। এই মৃত্যু পরবর্তী পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলে শোকের পাশাপাশি তাঁর শূন্যস্থান পূরণের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসছে। সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় তাঁর যে বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, তা স্থানীয় পর্যায়ে একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন তাঁর সহকর্মীরা। কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ছাড়াই অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়েছে বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন।
সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার প্রয়াণ চাঁদপুরের রাজনৈতিক ও স্থানীয় সামাজিক কাঠামোতে এক গভীর প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রাজনৈতিক কার্যক্রমে তাঁর যে অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব ছিল, তা নতুন নেতৃত্বের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেবে। একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা হিসেবে নিয়মানুবর্তিতা ও দূরদর্শিতা ছিল তাঁর নেতৃত্বের মূল চালিকাশক্তি। তাঁর প্রয়াণের মাধ্যমে একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। সাধারণ মানুষের সাথে তাঁর এই নিবিড় সংযোগ এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড তাঁকে মানুষের হৃদয়ে বাঁচিয়ে রাখবে। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী কয়েকদিন তাঁর আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে সর্বস্তরের মানুষকে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।