‘সরকারি ৪ শতাধিক গাছ কাটার অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে’ শিরোনামে দৈনিক কালবেলায় সংবাদ প্রকাশের পর দলীয় পদ হারিয়েছেন ভোলার লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জসিম উদ্দিন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে যুবদলের ভোলা জেলা সভাপতি মো. জামাল উদ্দিন লিটন ও সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল কাদের সেলিম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়।
জসিম উদ্দিন রায়চাঁদ উদয়চন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবেও কর্মরত।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্ট এবং দলের নীতি-আদর্শ ও সংহতিবিরোধী কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জসিম উদ্দিনকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত ব্যক্তির কোনো অপকর্মের দায় দল নেবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে তাঁর সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে অভিযোগ ওঠে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উদ্যোগে লালমোহন উপজেলার কর্তারহাট থেকে রমাগঞ্জ ইউনিয়নের রায়চাঁদ বাজার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। এ জন্য কিছু গাছ কাটার প্রয়োজন দেখা দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়ে কাটার উপযোগী গাছের সংখ্যা ও সম্ভাব্য মূল্য নির্ধারণের নির্দেশ দেন।
নির্দেশনা অনুযায়ী সরেজমিন পরিদর্শন করে ২৪টি গাছ কাটার প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, কোনো ধরনের দরপত্র ছাড়াই রেইনট্রি, মেহগনি ও চাম্বুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির চার শতাধিক গাছ কেটে নিয়ে যান জসিম উদ্দিন। এসব গাছের বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জসিম উদ্দিন। তাঁর দাবি, গাছ কাটার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তাঁর সুনাম ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক জানান, সড়কের পাশের গাছগুলো কাটার জন্য কোনো দরপত্র দেওয়া হয়নি। এরপরও একটি চক্র গাছ কেটে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।