মিরপুরে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নিলেন এডিসি জাহিদুল | আই নিউজ বিডি

মিরপুরে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নিলেন এডিসি জাহিদুল..

Touhid Sarkar avatar   
Touhid Sarkar
মিরপুরে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নিলেন এডিসি জাহিদুল..
মিরপুরে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নিলেন এডিসি জাহিদুল..
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহের সময় পুলিশের লাঠিচার্জের ভিডিও ধারণ করায় কালের কণ্ঠের সাংবাদিক মাহবুব ইসলামের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এডিসি জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে..

গত ১ নভেম্বর রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহের সময় দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় কালের কণ্ঠের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মাহবুব ইসলামের মোবাইল ফোন কেড়ে নেন মিরপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) জাহিদুল ইসলাম। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের লাঠিচার্জের দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করার সময় এডিসি জাহিদুল ইসলাম সরাসরি সাংবাদিকের দিকে এগিয়ে যান এবং জোরপূর্বক তার মুঠোফোনটি কেড়ে নেন। সাংবাদিক মাহবুব নিজের পরিচয়পত্র প্রদর্শন করলেও এবং ফোনটি ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানালেও ওই কর্মকর্তা তা প্রত্যাখ্যান করেন। ঘটনার ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও মোবাইল ফোনটি ফেরত না পাওয়ায় পেশাগত দায়িত্ব পালনে চরম প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক। এই ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং পেশাগত নিরাপত্তার ওপর একটি বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার দৃশ্যমান ভিডিও ফুটেজ ইতোমধ্যে জনসমক্ষে এসেছে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক মাহবুব ইসলামের অভিযোগ অনুযায়ী, মোবাইল ফোনটিতে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সংক্রান্ত নথিপত্র, বিশেষ প্রতিবেদনের তথ্য এবং ব্যক্তিগত অনেক তথ্য সংরক্ষিত ছিল, যা হারিয়ে ফেলায় তিনি পেশাগতভাবে নিগৃহীত বোধ করছেন। একই এলাকায় সংবাদ সংগ্রহে থাকা ঢাকা পোস্টের রিপোর্টার মারুফ হোসেনও একই ধরনের বাধার সম্মুখীন হন, যেখানে এডিসি জাহিদুল ইসলাম তাকে ভিডিও ধারণ থেকে বিরত থাকার জন্য উদ্ধত আচরণ করেন। মারুফ হোসেন প্রতিবাদ করলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা ‘মাথা গরম’ থাকার অজুহাত দেখিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন। মাঠপর্যায়ে পুলিশের এই ধরনের আচরণ কেবল গণমাধ্যমকর্মীদের কাজের পরিবেশকেই সংকুচিত করছে না, বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এমন অসহযোগিতামূলক ও আক্রমণাত্মক আচরণ অধস্তনদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলতে পারে।

ঘটনার পরপরই মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এডিসি জাহিদুল ইসলাম বারবার গড়িমসি করেন। প্রথমদিকে ফোনটি ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে তিনি অসংলগ্ন বক্তব্য দেন এবং কোনো এক পর্যায়ে ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেন। এমনকি প্রয়োজনে নতুন ফোন কিনে দেওয়ার মতো অনৈতিক ও অবমাননাকর প্রস্তাবও দেওয়া হয়। তবে বিস্ময়করভাবে, মিডিয়ার সামনে এডিসি জাহিদুল ইসলাম সম্পূর্ণভাবে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। উপস্থিত সাংবাদিকরা ভিডিও ফুটেজ দেখালে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন স্ববিরোধী অবস্থান এবং সত্য গোপন করার প্রবণতা জবাবদিহিতার অভাবকে প্রকট করে তুলেছে।

সংবাদকর্মীদের ওপর এমন অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ ও ব্যক্তিগত সম্পদ কেড়ে নেওয়ার ঘটনা গণমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যকার আস্থার সম্পর্কে ফাটল ধরাচ্ছে। দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে পুলিশের পক্ষ থেকে এ ধরনের বাধা প্রদান স্বাধীন সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। এই ঘটনার দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে মাঠপর্যায়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের এমন আচরণ কেবল একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং এটি তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী। দ্রুত মোবাইল ফোন উদ্ধার এবং ঘটনার যথাযথ বিচার বিভাগীয় বা প্রশাসনিক তদন্তই কেবল এই পরিস্থিতির উত্তরণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

没有找到评论


News Card Generator