সৌদি আরবে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার জসিমের মরদেহ দেশে ফেরা: তিন… | আই নিউজ বিডি

সৌদি আরবে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার জসিমের মরদেহ দেশে ফেরা: তিন কন্যা ও স্ত্রীর জীবনে গভীর অনিশ্চয়তা, ন্যায়বিচারের দাবি..

Akhter Hossain avatar   
Akhter Hossain
সৌদি আরবে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার জসিমের মরদেহ দেশে ফেরা: তিন কন্যা ও স্ত্রীর জীবনে গভীর অনিশ্চয়তা, ন্যায়বিচারের দাবি..
সৌদি আরবে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার জসিমের মরদেহ দেশে ফেরা: তিন কন্যা ও স্ত্রীর জীবনে গভীর অনিশ্চয়তা, ন্যায়বিচারের দাবি..
ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবের আল কাসিম মরুভূমিতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে চাঁদপুরের জসিম উদ্দিনের মরদেহ দেশে ফিরেছে। এই ঘটনায় তার স্ত্রী ও তিন কন্যা শোকে কাতর এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। পরিব..

সৌদি আরবের আল কাসিম মরুভূমিতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে জসিম উদ্দিন নামের এক প্রবাসী শ্রমিকের নিথর দেহ নিজ গ্রাম চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ঘাসিরচর গ্রামে ফিরে এসেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) তার মরদেহ দেশে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। জীবিকার তাগিদে প্রবাসে গিয়ে নির্মম মৃত্যুর শিকার হওয়া জসিম উদ্দিনের স্ত্রী রুমা আক্তার ও তার তিন কন্যা এখন গভীর শোক এবং অনিশ্চয়তার মুখে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটির আকস্মিক মৃত্যু তাদের জীবনে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে, যার ফলে সন্তানদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও ভরণপোষণ নিয়ে এক গভীর দুশ্চিন্তা গ্রাস করেছে রুমা আক্তারকে। জসিম উদ্দিনের এই মর্মান্তিক মৃত্যু কেবল তার পরিবারের জন্যই নয়, বরং বিদেশে কর্মরত লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশীর নিরাপত্তা এবং তাদের পরিবারের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের এক করুণ চিত্র তুলে ধরেছে।

নিহত জসিম উদ্দিন ছিলেন ঘাসিরচর গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে এবং তার পরিবারে স্ত্রী রুমা আক্তার ছাড়াও ছিল তিন কন্যা – ১৮ বছর বয়সী বিবাহিত বড় মেয়ে জাকিয়া, ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী আয়েশা এবং দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী জেসিয়া। জসিমের স্বপ্ন ছিল প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে সন্তানদের সুশিক্ষিত করে তোলা এবং তাদের একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা। কিন্তু একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডে সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। বাবার স্নেহ ও সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত এই তিন কন্যার ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের মা রুমা আক্তার এখন চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। স্ত্রী রুমা আক্তার স্বামীর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, "স্বামীকে হারিয়ে তিন সন্তান নিয়ে আমি এখন অসহায়। যারা আমার স্বামীকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।" তিনি আরও বলেন, সন্তানদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য তিনি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। বিশেষ করে, ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী আয়েশা তার বাবার মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত এবং বাবার হত্যাকারীদের বিচার দাবি করেছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর জসিম উদ্দিন প্রায় চার লাখ টাকা পাঠানোর উদ্দেশ্যে এক সহকর্মীর সঙ্গে সৌদি আরবের আল কাসিম এলাকায় বেরিয়ে নিখোঁজ হন। কয়েক দিন পর মরুভূমির বালুচাপা অবস্থা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, জসিমকে হত্যা করে মরদেহ বালুর নিচে চাপা দেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে স্ত্রী ও স্বজনদের কাছে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। এই ঘটনায় সৌদি পুলিশ সাব্বির নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মতলব উত্তর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছে। অন্যদিকে, জসিমের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত জটিল ও অনিশ্চিত। সাংবাদিক শামীম মিয়াজীর মাধ্যমে যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মর্তুজা মাহবুবের সঙ্গে যোগাযোগ করেন স্বজনরা এবং পরে তারা বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের সহযোগিতা কামনা করেন। প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, তার ব্যক্তিগত সহকারী আল আমিন এবং যুব অধিকার পরিষদের নেতা মর্তুজা মাহবুবের আন্তরিক প্রচেষ্টায় অবশেষে ৩১ অক্টোবর জসিমের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মর্তুজা মাহবুব জানান, তাদের এলাকার একজন প্রবাসী বিদেশে নিহত হওয়ার পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি তারা নিজেদের দায়িত্ব মনে করেছেন এবং প্রতিমন্ত্রীর আন্তরিক সহযোগিতায় এই প্রচেষ্টা সফল হয়েছে।

প্রিয়জনের নিথর দেহ দেশে ফিরলেও জসিম উদ্দিনের পরিবার এখন ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়। স্ত্রী রুমা আক্তারের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, বাবাহারা তিন কন্যার পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ জীবন নিশ্চিত করতে তিনি সরকারের বিশেষ সহযোগিতা কামনা করেছেন। একজন প্রবাসীর এমন নির্মম মৃত্যু কেবল তার পরিবারকেই নয়, বরং বিদেশে কর্মরত লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশীর নিরাপত্তা ও তাদের পরিবারের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই ঘটনাটি বিদেশে বাংলাদেশি কর্মীদের সুরক্ষা এবং তাদের অধিকার আদায়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তাকে আরও একবার সামনে এনেছে।

Không có bình luận nào được tìm thấy


News Card Generator