উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা উদ্বেগজনক… | আই নিউজ বিডি

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা উদ্বেগজনক বৃদ্ধি: শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন..

Roman Rahman avatar   
Roman Rahman
উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা উদ্বেগজনক বৃদ্ধি: শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন..
উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা উদ্বেগজনক বৃদ্ধি: শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন..
ছবি: সংগৃহীত
এ বছর উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় ২৯৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি, যা গত বছরের তুলনায় ৯১টি প্রতিষ্ঠান বেশি এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়ে গভীর..

এ বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে একটি উদ্বেগজনক চিত্র বেরিয়ে এসেছে, যেখানে দেশের ২৯৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাসের হার শূন্য। অর্থাৎ, এসব প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থীও পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। গত বছর, অর্থাৎ এর পূর্ববর্তী শিক্ষাবর্ষে, এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২০২টি। এক বছরের ব্যবধানে শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯১টি বৃদ্ধি পাওয়া দেশের শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা এবং গুণগত মানের অবনতিকে স্পষ্ট করে তুলেছে। এ বছর মোট ৯,৩৯০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল, যার মধ্যে প্রায় ৩.১২ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের ফলাফল চরম হতাশাব্যঞ্জক। এই পরিসংখ্যান কেবল একটি সংখ্যা নয়, এটি হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এবং তাদের শিক্ষাজীবনের ওপর গুরুতর প্রভাবের ইঙ্গিত দেয়, যা জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করে। এই ফলাফল শিক্ষা খাতের নীতি নির্ধারণ, বাস্তবায়ন ও তদারকি প্রক্রিয়ায় একটি মৌলিক পর্যালোচনার অপরিহার্যতা তুলে ধরে।

এই শূন্য পাসের হার কেবলমাত্র শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা নয়, বরং এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাদান পদ্ধতি, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং শিক্ষক-শিক্ষিকার মান ও দায়বদ্ধতার গভীর সংকট নির্দেশ করে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক যোগ্য শিক্ষক নেই, নিয়মিত ক্লাস হয় না, এবং আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতি অনুসরণ করা হয় না। বিশেষ করে, গ্রামীণ বা প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার মৌলিক সুযোগ-সুবিধার অভাব প্রকট। শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে না পারা এসব প্রতিষ্ঠানের চরম ব্যর্থতার ফলস্বরূপ, অসংখ্য তরুণ-তরুণী উচ্চশিক্ষা বা কর্মজীবনের প্রাথমিক ধাপেই হোঁচট খাচ্ছে। এর ফলে তাদের মধ্যে হতাশা ও আত্মবিশ্বাসের অভাব তৈরি হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের ব্যক্তিগত জীবন এবং দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতি শিক্ষাব্যবস্থায় বিদ্যমান বৈষম্য এবং দুর্বল তদারকি ব্যবস্থার রুট ডাইনামিক্সকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে, যেখানে কিছু প্রতিষ্ঠান ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণেও ব্যর্থ হচ্ছে।

এই ভয়াবহ ফলাফলের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ডসমূহ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষা খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে শূন্য পাসের হার দেখা যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে এসব প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি বাতিল করা বা বিশেষ তদারকির আওতায় এনে শিক্ষার মান উন্নয়নে জোর দেওয়া অপরিহার্য। বাস মালিক সমিতি বা স্টাফদের অজুহাত যেমন পরিবহন খাতে চলে, তেমনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও শিক্ষক বা কর্তৃপক্ষের নানা অজুহাত এই সমস্যার মূল কারণ হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষক-শিক্ষিকার যোগ্যতা, উপস্থিতি এবং পাঠদান পদ্ধতির ওপর নিবিড় নজরদারি বাড়াতে হবে। একইসাথে, শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা প্রদান এবং তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। এই সমস্যা সমাধানে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন না হলে শিক্ষার এই নিম্নমুখী ধারা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অশনিসংকেত বয়ে আনবে।

শিক্ষার এই করুণ চিত্র দেশের সামগ্রিক মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে বড় বাধা সৃষ্টি করছে। যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তবে ভবিষ্যতে দেশের শ্রমবাজারে অদক্ষ ও অযোগ্য কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। এই সমস্যা কেবল শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত জীবনকেই প্রভাবিত করছে না, বরং একটি শিক্ষিত ও দক্ষ জাতি গঠনের স্বপ্নকেও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা না গেলে, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিতে পারে, যার সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সমাজের প্রতিটি স্তরে।

Walang nakitang komento


News Card Generator