প্রবাসীর পাঠানো ২২ লাখ টাকা নিয়ে স্ত্রীর নিখোঁজের অভিযোগ, সন্তানকে নিয়ে বিপাকে স্বামী.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

প্রবাসীর পাঠানো ২২ লাখ টাকা নিয়ে স্ত্রীর নিখোঁজের অভিযোগ, সন্তানকে নিয়ে বিপাকে স্বামী..

Abdullah al Mamun avatar   
Abdullah al Mamun
প্রবাসীর পাঠানো ২২ লাখ টাকা নিয়ে স্ত্রীর নিখোঁজের অভিযোগ, সন্তানকে নিয়ে বিপাকে স্বামী..
প্রবাসীর পাঠানো ২২ লাখ টাকা নিয়ে স্ত্রীর নিখোঁজের অভিযোগ, সন্তানকে নিয়ে বিপাকে স্বামী..
ছবি: সংগৃহীত
‎নোয়াখালী প্রতিনিধি: আব্দুল্লাহ আল মামুন
 
‎নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে প্রবাসীর পাঠানো প্রায় ২২ লাখ টাকার হিসাব ও স্ত্রী নিখোঁজের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। গত তিন মাস ধরে স্ত্রী নুরজাহান বেগম ও ছোট ছেলের কোনো সন্ধান পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন প্রবাসী আব্দুল কাইয়ুম। এ অবস্থায় এক সন্তানকে নিয়ে চরম দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাঁরা। স্ত্রীকে খুঁজে পেতে তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
‎
‎অভিযোগকারী আব্দুল কাইয়ুম কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ নগর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্ত্রী নুরজাহান বেগম কবিরহাট উপজেলার ভূঁইয়ার হাটের দৌলত রামদী এলাকার আব্দুল কুদ্দুসের মেয়ে।
‎
‎
‎পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে কোর্ট এফিডেভিটের মাধ্যমে আব্দুল কাইয়ুম ও নুরজাহান বেগমের বিয়ে হয়। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। সংসারের ভবিষ্যৎ গড়তে আব্দুল কাইয়ুম দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে উপার্জন করেন।
‎
‎আব্দুল কাইয়ুমের অভিযোগ, প্রবাসে থাকার প্রায় আট বছরে ঘর নির্মাণের উদ্দেশ্যে তিনি বিভিন্ন সময়ে স্ত্রীকে প্রায় ২২ লাখ টাকা পাঠিয়েছেন। তবে তাঁর দাবি, ওই অর্থ দেয়ে ঘর নির্মাণ হয়নি। এরই মধ্যে প্রায় তিন মাস আগে স্ত্রী ও ছোট ছেলের সন্ধান না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে প্রবাস থেকে চলে এর আসেন  তিনি।
‎
‎তাঁর সন্দেহ, স্ত্রী অন্যত্র চলে গেছেন।  একক সংসারে যা কিছু ছিল সকল আসবাবপত্র  আগে থেকে সরিয়ে বাপের বাড়ি যাওয়ার কথা বলে অন্য কারো সাথে উধাও হয়।
‎
‎
‎আব্দুল কাইয়ুমের ভাষ্য অনুযায়ী, স্ত্রীর ফোনালাপ নিয়ে প্রশ্ন তোলার কারণে তাঁদের এক সন্তানকে গরম খুন্তি দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছিল।
‎
‎বর্তমানে সন্তানটি মায়ের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন আব্দুল কাইয়ুম। মায়ের অনুপস্থিতি ও পারিবারিক পরিস্থিতি নিয়ে সে মানসিকভাবে উদ্বিগ্ন বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
‎
‎
‎আব্দুল কাইয়ুম জানান, স্ত্রী ও ছোট ছেলের সন্ধান পেতে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেছেন। কোনো সন্ধান না পেয়ে তিনি কোম্পানীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে দাবি করেন।
‎
‎তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি এসআই নজরুল তদন্ত করছেন। তবে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি সন্তোষজনক তথ্য পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। তদন্তের বর্তমান অবস্থা এবং এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
‎
‎
‎
‎স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, ফোনালাপকে কেন্দ্র বড় ছেলের সাথে  বিরোধের সৃষ্টি হয়েছিল বলে তাঁরা জানেন। এ নিয়ে একাধিকবার সামাজিক বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও তাঁরা দাবি করেন। 
‎
‎
‎
‎
‎আব্দুল কাইয়ুম বলেন, দীর্ঘ প্রবাসজীবনের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে তিনি সংসারের স্থায়ী ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু স্ত্রী ও ছোট ছেলের অনুপস্থিতি এবং অর্থের হিসাব অমীমাংসিত থাকায় তিনি এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
‎
‎তিনি স্ত্রী নুরজাহান বেগম ও ছোট ছেলের সন্ধান, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
‎
‎এদিকে, বড় সন্তানটি দেশবাসীর কাছে তার মায়ের সন্ধান চেয়ে আবেদন জানিয়েছে। কোথাও নুরজাহান বেগমকে দেখা গেলে বা তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য জানা থাকলে সংশ্লিষ্ট পরিবারকে জানানোর অনুরোধ জানিয়েছে সে।
‎
‎এ বিষয়ে নুরজাহান বেগম ও তাঁর পরিবারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
‎
‎প্রতিবেদন: আব্দুল্লাহ আল মামুন
‎
コメントがありません


News Card Generator