ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রকোপে ২৪ ঘণ্টায় ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৮৬ রোগী.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রকোপে ২৪ ঘণ্টায় ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৮৬ রোগী..

Roman Rahman avatar   
Roman Rahman
ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রকোপে ২৪ ঘণ্টায় ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৮৬ রোগী..
ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রকোপে ২৪ ঘণ্টায় ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৮৬ রোগী..
ছবি: সংগৃহীত
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে, যেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয়জনের মৃত্যু ও ১৮৮৬ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছর মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১৫ জনে।..

দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং একই সময়ে সারা দেশে ১,৮৮৬ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সংগৃহীত পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে যে মশাবাহিত এই রোগের সংক্রমণ এখন আর কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সারা দেশে এক ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১,৩২,১০৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে ৪১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত বছরের তুলনায় সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা এবং মৃত্যুহার বৃদ্ধি জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের জন্য উদ্বেগের একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা মূলত অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং মশা নিধনে কার্যকর পদক্ষেপের অভাবকেই নির্দেশ করে।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে ৭৫৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৭২ জন এবং খুলনা বিভাগে ২৬৪ জনসহ দেশের আটটি বিভাগেই আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনক। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এবং হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় বেড ও মানসম্মত চিকিৎসার সংকট প্রকট হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মশা নিধনে স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের নিয়মিত কার্যক্রমের অভাব এবং সময়োপযোগী সচেতনতামূলক প্রচারণার ঘাটতির কারণে সাধারণ মানুষ ডেঙ্গু আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে প্রান্তিক পর্যায়ে চিকিৎসার সুযোগ-সুবিধা সীমিত হওয়ায় জটিল রোগীদের জীবন বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ছে, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্য খাতের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে এবং রোগীদের দ্রুত সুস্থ হওয়ার হারকে মন্থর করে দিচ্ছে।

পরিস্থিতির বিপরীতে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এবং সিটি কর্পোরেশনগুলোর পক্ষ থেকে মশা নিধনে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম পরিচালনার দাবি করা হলেও বাস্তবে এর প্রতিফলন খুবই নগণ্য। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ১,২৫,৪৩৯ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন, তবে নতুন করে আক্রান্তদের হার যেভাবে বাড়ছে তাতে হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, কেবল হাসপাতালে ভর্তি এবং চিকিৎসা প্রদানই যথেষ্ট নয়, বরং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে কঠোর মনিটরিং এবং সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সিটি কর্পোরেশন ও স্বাস্থ্য বিভাগের মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদান এবং সমন্বিত মশা নিধন কার্যক্রমের অভাবই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলে মনে করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা, যারা বারবার জনসচেতনতার পাশাপাশি পরিবেশগত পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করছেন।

ডেঙ্গুর এই ভয়াবহতা কেবল বর্তমান সময়ের স্বাস্থ্য সংকট নয়, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতি এবং উৎপাদনশীল জনশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রতি বছর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা এবং মৃত্যুর হার যেভাবে বাড়ছে, তা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্য খাত এক অপূরণীয় বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে। দ্রুত কার্যকর ওষুধ প্রয়োগ, মশার প্রজনন উৎস ধ্বংস করা এবং সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ না করলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা আরও বিঘ্নিত হবে। এখন সময় এসেছে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার এবং একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করার, যাতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আর কোনো প্রাণ কেড়ে নিতে না পারে এবং সাধারণ মানুষ একটি শঙ্কামুক্ত পরিবেশে বসবাস করতে পারে।

Walang nakitang komento


News Card Generator