শেখ হাসিনার বিদায়ের আগেই ইউনূসের নেতৃত্ব চূড়ান্ত ছিল: নতুন তথ্যে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বিতর্কের উত্তাপ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

শেখ হাসিনার বিদায়ের আগেই ইউনূসের নেতৃত্ব চূড়ান্ত ছিল: নতুন তথ্যে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বিতর্কের উত্তাপ..

Roman Rahman avatar   
Roman Rahman
শেখ হাসিনার বিদায়ের আগেই ইউনূসের নেতৃত্ব চূড়ান্ত ছিল: নতুন তথ্যে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বিতর্কের উত্তাপ..
শেখ হাসিনার বিদায়ের আগেই ইউনূসের নেতৃত্ব চূড়ান্ত ছিল: নতুন তথ্যে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বিতর্কের উত্তাপ..
ছবি: সংগৃহীত
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পূর্বেই মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত ছিল বলে জানিয়েছেন এএফপির সাবেক ব্যুরো প্রধান শফিকুল আলম। এই তথ্য হাসিনা সরকারের পতনকে এ..

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের ঘটনাটি কেবল একটি স্বতঃস্ফূর্ত গণ-অভ্যুত্থান ছিল না, বরং এর পেছনে ছিল সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশলের ছায়া। সম্প্রতি এএফপির ঢাকা ব্যুরোর তৎকালীন প্রধান শফিকুল আলমের ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যায়, হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে মুহাম্মদ ইউনূসের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছিল। এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেছেন এএফপির ফ্যাক্ট-চেক বিভাগের কর্মী কদরুদ্দিন শিশির। শফিকুল আলমের ভাষ্যমতে, ছাত্রনেতাদের সাথে ইউনূসের প্রাথমিক যোগাযোগের পথটি শিশির অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে তৈরি করেছিলেন, যা হাসিনা সরকারের গোয়েন্দা নজরদারির অগোচরে সম্পন্ন হয়। এই তথ্যপ্রমাণ স্পষ্ট করে যে, আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে নেতৃত্বের কাঠামো এবং পরবর্তী সরকার গঠনের রূপরেখা আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল, যা এখন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহলে ‘রেজিম চেঞ্জ অপারেশন’ বা শাসনক্ষমতা পরিবর্তনের অভিযান হিসেবে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

তৎকালীন হাসিনা সরকারের কঠোর দমন-পীড়নের পরিবেশে এই ধরনের যোগাযোগ রক্ষা করা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। শফিকুল আলম উল্লেখ করেছেন যে, এই গোপন তৎপরতা ফাঁস হয়ে গেলে তাদের পুরো টিমকে তৎকালীন সরকারের গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’-এ নিদারুণ পরিণতির শিকার হতে হতো। ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময়ে সরকার বিরোধী কণ্ঠস্বর দমনে যে নজিরবিহীন নিপীড়ন চালিয়েছিল, তার বিপরীতে ছাত্র আন্দোলনের নেপথ্যে থাকা কুশীলবরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নিজেদের পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন। আন্দোলনের সময় কদরুদ্দিন শিশির কেবল যোগাযোগ রক্ষাই করেননি, বরং সরকারের নৃশংসতার ভিডিও প্রমাণ সংগ্রহের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজও চালিয়ে গেছেন। তবে এই প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত থাকা ব্যক্তিদের একাংশ এখন দাবি করছেন, তাদের এই উদ্যোগ ছিল কেবল দেশের বৃহত্তর স্বার্থে একটি বিকল্প নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার তাগিদ, যা স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের জন্য অনিবার্য ছিল।

এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্ন উঠছে। শেখ হাসিনা বর্তমানে নির্বাসিত জীবন কাটালেও তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছেন। এদিকে ৫ আগস্টের ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সুরির রহস্যজনক মৃত্যু এবং তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাটি পুরো পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করেছে। সুরির পরিবার এটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে দাবি করে ঘটনার বিচার দাবি করেছে। অন্যদিকে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেপথ্য কারিগর হিসেবে মাহফুজ আলমের ভূমিকার কথা খোদ মুহাম্মদ ইউনূস নিজেই স্বীকার করেছেন, যা ইঙ্গিত দেয় যে আগস্টের বিপ্লব কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। প্রশাসনের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে এই সুপরিকল্পিত পরিবর্তনের বিষয়টি এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে মেরুকরণ সৃষ্টি করেছে এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার দাবি জোরালো হচ্ছে।

পরিশেষে, শেখ হাসিনার বিদায়ের আগে ইউনূসের সরকার গঠনের এই সুপরিকল্পিত রূপরেখা প্রকাশ পাওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এটি প্রমাণ করে যে, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন কেবল রাজপথের লড়াই ছিল না, বরং এর পেছনে ছিল একটি সুসংগঠিত বুদ্ধিবৃত্তিক ও কৌশলগত পরিকল্পনা। এই তথ্যের প্রভাব ভবিষ্যতে দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সাথে, সরকারের পতনের নেপথ্যে থাকা আন্তর্জাতিক বা অভ্যন্তরীণ শক্তিগুলোর ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হওয়া সংশয় নিরসনে একটি স্বচ্ছ তদন্ত এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যাতে ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণ সম্পর্কে প্রকৃত সত্য উন্মোচিত হয়।

Walang nakitang komento


News Card Generator