- সালাউদ্দিন আকবর ,ঢাকা
আজকের ক্ষয়িষ্ণু সমাজে এক অদ্ভুত ও সমান্তরাল মানসিকতার জন্ম হয়েছে, যেখানে নৈতিকতা আর মূল্যবোধের সংজ্ঞাগুলো সম্পূর্ণ উল্টে গেছে। যে সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে একটি সুস্থ পরিবার ও সমাজ গড়ে ওঠে, আজ তা-ই এক শ্রেণীর তথাকথিত ‘আধুনিক’ ও বিকৃত মগজের মানুষের কাছে উপহাসের খোরাক।
বর্তমান সমাজে এক অদ্ভুত ট্রেন্ড লক্ষ্য করা যায়—যে পুরুষ নিজের স্ত্রীকে মনে-প্রাণে ভালোবাসেন, পরকীয়ায় জড়ান না এবং স্ত্রীর প্রতি যত্নশীল, তাকে সমাজ অবলীলায় ‘বউ পাগলা’ বলে আখ্যা দেয়। একইভাবে, যে নারী নিজের স্বামীকে ভালোবাসেন এবং পরপুরুষে আসক্ত নন, তাকে ডাকা হয় ‘স্বামী পাগলী’। একনিষ্ঠ ভালোবাসা, পারস্পরিক সম্মান এবং বিশ্বস্ততার মতো অমূল্য মানবিক গুণগুলোকে আজ একদল মানুষ মানসিক সস্তা উপাধিতে রূপান্তর করেছে। অথচ এই একনিষ্ঠতাই ছিল একটি সুখী দাম্পত্যের মূল ভিত্তি।
ইসলামী সংস্কৃতিতে বা চিরায়ত পারিবারিক মূল্যে স্ত্রীকে বলা হয় ‘রাব্বাতুল বাইত’ বা ঘরের রানী। বিয়ের পর নিজের বৈধ স্ত্রীর সাথে প্রেম ও ভালোবাসায় মজে থাকা কোনো দুর্বলতা নয়, বরং এটি সেই মনের রাজাদের কাজ, যারা নিজের স্ত্রীকে সত্যিই রানী হিসেবে মর্যাদা দিতে জানে। দুর্ভাগ্যবশত, বিকৃত মনস্তত্ত্বের কিছু মানুষের কাছে এই সুন্দর ও রোমান্টিক মুহূর্তগুলো মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজের ঘরের পবিত্র সম্পর্ককে আড়াল করে যারা বাইরের সস্তা আকর্ষণে মত্ত থাকে, তারাই আজ সমাজের প্রগতিশীলতার সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে চাইছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, সমাজের একটি অংশ এখন পরকীয়াকে ‘স্মার্টনেস’ বা ‘মডার্নিজম’ (আধুনিকতা) হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। যে পুরুষ বা নারী পরকীয়ায় লিপ্ত, তাদের এক প্রকার ‘বোল্ড’ বা আধুনিক পশ্চিমা সংস্কৃতির নায়ক-নায়িকা হিসেবে দেখার এক প্রচ্ছন্ন প্রবণতা তৈরি হয়েছে। পশ্চিমা সংস্কৃতির অন্ধ ও ভুল অনুকরণ করতে গিয়ে অনেকেই পারিবারিক অনুশাসন, বিশ্বস্ততা এবং নৈতিকতাকে ‘ব্যাকডেটেড’ বা প্রাচীনপন্থী ভাবা শুরু করেছেন।
একটি সমাজ তখনই ধ্বংসের মুখে পড়ে, যখন তার ভেতরের পবিত্র বিষয়গুলো উপহাসের পাত্র হয় আর অনৈতিকতা পায় আভিজাত্যের তকমা। পরকীয়া বা অনৈতিক সম্পর্ক কখনোই আধুনিকতা হতে পারে না; এটি মূলত মানসিক দেউলিয়াত্ব এবং নৈতিক স্খলন। সময় এসেছে এই বিকৃত মানসিকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর। ঘরের রানীকে রানী ভাবা এবং নিজের সঙ্গীর প্রতি বিশ্বস্ত থাকাটাই হোক আসল আধুনিকতা ও শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয়।