রাঙ্গুনিয়ায় ধানখেতে কৃষকের নৃশংস হত্যাকাণ্ড: দুই হাত বিচ্ছিন্ন করে হত্যায় চাঞ্চল্য.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

রাঙ্গুনিয়ায় ধানখেতে কৃষকের নৃশংস হত্যাকাণ্ড: দুই হাত বিচ্ছিন্ন করে হত্যায় চাঞ্চল্য..

Md. Nezam Uddin avatar   
Md. Nezam Uddin
রাঙ্গুনিয়ায় ধানখেতে কৃষকের নৃশংস হত্যাকাণ্ড: দুই হাত বিচ্ছিন্ন করে হত্যায় চাঞ্চল্য..
রাঙ্গুনিয়ায় ধানখেতে কৃষকের নৃশংস হত্যাকাণ্ড: দুই হাত বিচ্ছিন্ন করে হত্যায় চাঞ্চল্য..
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বন্য হাতির হাত থেকে ফসল রক্ষায় পাহারারত কৃষক নেজাম উদ্দিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও দুই হাত বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।..

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের মীরেরখীল সিঙ্গাপুর এলাকায় গত মঙ্গলবার গভীর রাতে মো. নেজাম উদ্দিন (৪৫) নামক এক কৃষককে অত্যন্ত নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমন ধান বন্য হাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে তিনি নিজের খেতের পাশে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছিলেন। বুধবার সকালে রাঙ্গুনিয়া-বোয়ালখালী সীমান্তবর্তী বিলের পাশে তাঁর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। নেজাম উদ্দিন ওই এলাকার মো. রফিকুল ইসলাম বক্করের ছেলে এবং পেশায় একজন প্রান্তিক কৃষক ও গবাদি পশু পালনকারী ছিলেন। দুর্বৃত্তরা তাঁকে হত্যার পর শরীরের দুটি হাত বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে, যা এই হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতা ও পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ সম্পন্ন করেছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এই নৃশংস ঘটনাটি পুরো এলাকায় এক গভীর শঙ্কার জন্ম দিয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ এবং স্থানীয়দের তথ্যানুযায়ী, নেজাম উদ্দিন সম্প্রতি নিজ বাড়িতে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলেন। এই ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি চক্র তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে এলাকাজুড়ে তীব্র সন্দেহ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। কৃষিকাজ ও পশুপালনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করা একজন নিরপরাধ মানুষের ওপর এমন পাশবিক নির্যাতন স্থানীয়দের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি করেছে। হত্যার পদ্ধতি এবং হাত বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টি সাধারণ কোনো ঝগড়া বা বিবাদের পরিণতির চেয়ে পেশাদার অপরাধী চক্রের প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ডের দিকেই বেশি ইঙ্গিত দেয়। ঘটনার পর থেকে স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে রাতে খেত পাহারায় যেতেও অনেকে ভয় পাচ্ছেন।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিলাল উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে এবং হত্যার মোটিভ উদঘাটনে কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম দাবি করেছেন যে, এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা টহল জোরদার করেছেন এবং অপরাধীদের গ্রেফতারে তৎপর রয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত ৬ অক্টোবর পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে দিদার নামে আরেক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটল। চলতি মাসে এলাকায় চাঁদাবাজি ও সংঘর্ষের মতো একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এক ধরনের অনাস্থা তৈরি হয়েছে।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া অঞ্চলে একের পর এক খুন ও চাঁদাবাজির ঘটনা এই জনপদের সামাজিক স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। কৃষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে ব্যর্থতা স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যদি এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকা কুচক্রী মহলকে দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় না আনা হয়, তবে সরফভাটা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণ মানুষের চলাচল ও কৃষিকাজের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। নেজাম উদ্দিনের হত্যাকাণ্ডের বিচার না পাওয়া পর্যন্ত স্থানীয়দের এই আতঙ্ক কাটবে না বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

Hiçbir yorum bulunamadı


News Card Generator