সাতক্ষীরায় শামীম হত্যা ও শিশুধর্ষণ মামলায় তিন আসামির রিমান্ড.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

সাতক্ষীরায় শামীম হত্যা ও শিশুধর্ষণ মামলায় তিন আসামির রিমান্ড..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক: avatar   
শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক:
সাতক্ষীরায় শামীম হত্যা ও শিশুধর্ষণ মামলায় তিন আসামির রিমান্ড..
সাতক্ষীরায় শামীম হত্যা ও শিশুধর্ষণ মামলায় তিন আসামির রিমান্ড..
ছবি: সংগৃহীত
সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহেদুজ্জামান ওরফে শামীমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই দিনে সদর উপজেলায় প্রথম শ্রেণির এক স্কুলছাত্র..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা:

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহেদুজ্জামান ওরফে শামীমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই দিনে সদর উপজেলায় প্রথম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আরও এক আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) পৃথক শুনানি শেষে সাতক্ষীরার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তৃতীয় আদালতের বিচারক নূসরত জাহান এবং অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম বিলাস মণ্ডল এ আদেশ দেন।

দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের বড় শান্তা গ্রামের শামছুর রহমান সানার ছেলে ওয়াহেদুজ্জামান ওরফে শামীমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আসাদুল ইসলাম মোল্লা ও মোক্তার হোসেন খানের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দেবহাটা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমিন পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া আসামিরা হলেন দেবহাটার বড় শান্তা গ্রামের মহাতাবউদ্দিন খানের ছেলে মোক্তার খান এবং নাজিরের ঘের গ্রামের রহিম বক্স মোল্লার ছেলে আসাদুল মোল্লা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মহানবীকে কটূক্তি ও ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে গত ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় শামীমের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। পরদিন ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় কুলিয়ার ডা. এমএ সবুরের ক্লিনিকে এবং রাত ১১টার দিকে সখীপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এ সময় চিকিৎসক, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিহত শামীম মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এ ঘটনায় তাঁর ভাই আব্দুল জলিল বাদী হয়ে ১৫ অক্টোবর দেবহাটা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ফজলুল হক আমিনী, আসাদুল মোল্লা ও মোক্তার হোসেনসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ জনকে আসামি করা হয়।

পুলিশ এ ঘটনায় আসাদুল মোল্লা, মোক্তার হোসেন ও ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেপ্তার করে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, ফজলুল হক আমিনী আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

রিমান্ড শুনানিতে আসামিপক্ষে জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এম শাহ আলম, অ্যাডভোকেট আবু বক্কর ছিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিনসহ অন্তত ১০ জন আইনজীবী অংশ নেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন উপপরিদর্শক হায়দার আলী ও অ্যাডভোকেট আবু সাঈদ।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আল আমিন জানান, আদালতের আদেশের কপি পাওয়ার পর আসামিদের থানা হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসরণ করে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আগামী ৩০ অক্টোবর দুপুর ১২টার মধ্যে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করার নির্দেশনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙা ইউনিয়নে প্রথম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মোশাররফ হোসেন (৫৫) নামের এক আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর '২৬) সাতক্ষীরার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম বিলাস মণ্ডল এ আদেশ দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার উপপরিদর্শক শাহারিয়ার হোসেন তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন।

মোশাররফ হোসেন সদর উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের আছিদুর রহমান খান চৌধুরীর ছেলে। তিনি ঝাউডাঙা ইউনিয়নের ওয়ারিয়া গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের বাড়িতে কেয়ারটেকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর বিকেলে শিশুটিকে রাস্তা থেকে ডেকে নিয়ে ওই বাড়ির ছাদে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। শিশুটির মা বাদী হয়ে ১৩ অক্টোবর মোশাররফ হোসেনের নাম উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

মামলার বিবরণে আরও বলা হয়েছে, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর শিশুটি দাদি ও চাচির কাছে থেকে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করত। ১২ অক্টোবর পুলিশ শিশুটিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

এ মামলায় আসামিপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট শফিউর রহমান শফি। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সিএসআই মাজেদুর রহমান।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহারিয়ার হোসেন জানান, আদালতের আদেশের কপি পাওয়ার পর আসামিকে কারাগার থেকে থানা হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদের ব্যবস্থা করা হবে।

Walang nakitang komento


News Card Generator