ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম সমাবর্তন ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে, যার অংশ হিসেবে আগামী ১ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া উন্মুক্ত করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, আগ্রহী গ্র্যাজুয়েট ও পদকপ্রাপ্তদের ৩০ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে এবং ২ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে ফি প্রদানের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে হবে। নির্ধারিত ওয়েবসাইট convocation.du.ac.bd-এর মাধ্যমে চারটি ধাপে এই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী ২০২৭ সালের ২৬ জানুয়ারি সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিতব্য এই সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সভাপতিত্ব করবেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে জাপানের সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক আতসুশি সুনামি উপস্থিত থাকবেন এবং তাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লজ ডিগ্রি প্রদান করা হবে। এছাড়াও অধ্যাপক মুহাম্মদ হারুনুর রশীদকে সম্মানসূচক ডক্টর অব সায়েন্স ডিগ্রি প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট।
সমাবর্তনে অংশগ্রহণের জন্য যোগ্যতার মানদণ্ড হিসেবে ২০ নভেম্বর ২০২২ থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৬ সময়ের মধ্যে ফলাফল প্রকাশিত ডিগ্রিধারী ও পদকপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ৫৩তম সমাবর্তনের আওতাভুক্ত হতে না পারা ১৪ অক্টোবর ২০২২ থেকে ১৮ নভেম্বর ২০২২ সময়কালে প্রকাশিত ফলাফলের গ্র্যাজুয়েটদেরও এই সমাবর্তনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীদের জন্য নির্ধারিত এই সময়সীমা অত্যন্ত কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে, কারণ অনলাইন পেমেন্ট বা ফি পরিশোধের সময়সীমা আবেদনের শেষ সময়ের চেয়ে বাড়তি দুই দিন বরাদ্দ থাকলেও এর ব্যত্যয় ঘটলে আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্র্যাজুয়েটদের তথ্য যাচাই-বাছাই এবং সমাবর্তনের আনুষঙ্গিক প্রস্তুতির জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে আবেদন প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও দ্রুততর হয়। এই সমাবর্তনটি মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী তাদের অর্জিত ডিগ্রির আনুষ্ঠানিক সনদ গ্রহণের অপেক্ষায় থাকেন।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানটি সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় সমাবর্তনের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও সাংগঠনিক দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সভায় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সালাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হলের প্রভোস্ট ও প্রশাসনিক প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সফল করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি নির্বাহী কমিটি, একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং বেশ কয়েকটি উপ-কমিটি গঠন করেছে, যারা প্রতিটি ধাপে কাজের তদারকি করবে। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, অতীতের ন্যায় এবারও শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে সমাবর্তনটি একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ ও সিন্ডিকেটের চূড়ান্ত অনুমোদনক্রমে নেওয়া এই পদক্ষেপগুলো মূলত সমাবর্তনের মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন কেবলমাত্র একটি সনদ বিতরণের অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি হাজার হাজার গ্র্যাজুয়েটের দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের একটি চূড়ান্ত প্রাপ্তি ও গৌরবের মুহূর্ত। আগামী ২০২৭ সালের এই সমাবর্তনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমের একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষমাণ গ্র্যাজুয়েটদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের প্রতি দায়বদ্ধতার পরিচয় দিয়েছে। সমাবর্তনের সঠিক ব্যবস্থাপনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে একাত্মতার বন্ধন দৃঢ় করবে। যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন ও ফি প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এই ঐতিহাসিক আয়োজনের অংশ হতে পারবেন, যা তাদের ভবিষ্যতের পেশাগত জীবনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন আবেদনের পরবর্তী ধাপগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার মাধ্যমে পুরো আয়োজনটিকে একটি সফল পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।