শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ও আইনি বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমানের কঠোর অবস্থান.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ও আইনি বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমানের কঠোর অবস্থান..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ও আইনি বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমানের কঠোর অবস্থান..
শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ও আইনি বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমানের কঠোর অবস্থান..
ছবি: সংগৃহীত
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে তাকে কোনো ধরনের বেআইনি হামলার শিকার হতে হবে না, বরং তিনি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি হবেন বলে জানিয়েছেন ডা. জাহেদ উর রহমান।..

গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এবং তার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডা. জাহেদ উর রহমান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে কোনো ধরনের মব জাস্টিস বা বেআইনি পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে না। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে দেশে ফেরার পর সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই তার বিচার সম্পন্ন হবে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাকে কোনো ধরনের বেআইনি হামলার হাত থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। জাহেদ উর রহমানের মতে, শেখ হাসিনার ফিরে আসাটা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার চেয়েও আইনি বাধ্যবাধকতার বিষয়, কারণ তার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে যা এখন বিচার বিভাগের এখতিয়ারভুক্ত। তিনি আরও যোগ করেন যে, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালীন ন্যায়বিচারের যে অভাব ছিল, বর্তমান প্রশাসন সেই পথ অনুসরণ না করে আইনগত স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই বদ্ধপরিকর।

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ফিরে আসার সম্ভাবনা এবং তার রাজনৈতিক আচরণের সমালোচনা করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টি কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী নাটকীয়তায় রূপ নিয়েছে। তার মতে, শেখ হাসিনা গত ছয় মাস ধরে দেশে ফেরার গুঞ্জন ছড়িয়েও বারবার বিভিন্ন অজুহাতে তা পিছিয়ে দিচ্ছেন, যা মূলত রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের একটি কৌশল। তিনি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের উদাহরণ টেনে বলেন, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর এরশাদ দেশত্যাগ না করে বরং আইনি লড়াই করেছেন এবং পরবর্তীতে রাজনীতিতে সক্রিয় থেকেছেন। অথচ শেখ হাসিনার দেশত্যাগ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং অনেকটা পলায়নপর ডাকাতের মতো, যা তার নৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে এই দীর্ঘসূত্রতাকে এক ধরনের তামাশা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ বিচারের প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার ফলে অপরাধীরা পার পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে বলে অনেকের অভিযোগ রয়েছে। জাহেদ উর রহমান মনে করেন, শেখ হাসিনার এই বিলম্বিত প্রত্যাবর্তন কেবল জাতীয় মনোযোগকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার একটি কৌশল মাত্র।

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান যে নিশ্চয়তা দিয়েছেন, তা মূলত গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি সরকারের আস্থাকে প্রতিফলিত করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শেখ হাসিনা আমাদের সাথে ন্যায়বিচার করেননি, কিন্তু আমরা তার ক্ষেত্রে ন্যায়বিচারের মানদণ্ড বজায় রেখেই জবাব দেব। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো কোনো ধরনের বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার ফিরে আসাটা কেবল একজন ব্যক্তির ফেরা নয়, বরং এটি একটি বিচারিক পরীক্ষার মুখোমুখি হওয়া। সরকার এবং প্রশাসন এই বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে যাতে আন্তর্জাতিক মহলে কোনো ধরনের প্রশ্ন তোলার সুযোগ না থাকে। বিচার প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ রাখার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো প্রস্তুত রাখা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে কোনো আইনি জটিলতা তৈরি না হয়।

শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন এবং এর পরবর্তী আইনি জটিলতা বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এই বিচার প্রক্রিয়াটি দেশের বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতার একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে পরিগণিত হবে। ডা. জাহেদ উর রহমানের এই বক্তব্য মূলত একটি বার্তা দেয় যে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়, তা তিনি যত প্রভাবশালীই হোন না কেন। সাধারণ মানুষ এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে যে, আদৌ শেখ হাসিনা আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে দেশে ফিরবেন কি না। যদি তিনি ফিরে আসেন, তবে তার বিচার প্রক্রিয়া বাংলাদেশের পরবর্তী রাজনৈতিক মেরুকরণকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে এবং দীর্ঘদিনের অপশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বিচার বিভাগের ওপর জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator