বরিশালের গৌরনদীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে দাওয়াত খেতে এসে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত নেতাকর্মী আটক হয়েছেন। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈকত গুহ পিকলুর বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন সৈকত গুহ পিকলুর ছোট ভাই সলিল গুহ পিন্টু, সরকারি গৌরনদী কলেজ ছাত্র সংসদের ছাত্রলীগ মনোনীত সাবেক জিএস মহিবুল আলম খোকন, পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য ওয়াজ করনী আকন, বাটাজোর ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য মিঠুন হালদার, পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি মাসুম সরদার, মাহিলাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পলাশ হাওলাদার ও পৌর ছাত্রলীগের সদস্য সজিব সরদার।
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু জানান, তাদের বাড়িতে লক্ষ্মীপূজার অনুষ্ঠান চলছিল। এ উপলক্ষে কয়েকজন শুভাকাঙ্ক্ষীকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। রোববার সন্ধ্যায় বিএনপির কয়েকজন কর্মী-সমর্থক তাদের বাড়িতে এসে দাওয়াতে অংশ নিতে আসা ছয়জনসহ তার ছোট ভাই পিন্টু গুহকে পুলিশের হাতে তুলে দেন বলে তিনি দাবি করেন।
এ ঘটনায় গৌরনদী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. পারভেজ আহমেদ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইনে একটি নিয়মিত মামলা করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার সাতজন ছাড়াও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনির হোসেন মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কিছু সক্রিয় নেতাকর্মী সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি, আসন্ন ডিসেম্বর মাসে দলীয় প্রধানের দেশে প্রত্যাবর্তন সফল করা এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম সচল করার উদ্দেশ্যে গৌরনদীর বিল্লগ্রাম এলাকার একটি বসতঘরে গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছেন—এমন খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে সাতজনকে আটক করা হয়। এ সময় অন্য আসামিরা পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল জানান, আটক ব্যক্তিদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
সূত্র: কালবেলা