কুলিয়ারচরে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মঘণ্টায় তালা: ভোগান্তিতে সেবাগ্রহীতারা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

কুলিয়ারচরে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মঘণ্টায় তালা: ভোগান্তিতে সেবাগ্রহীতারা..

Ali Sohel avatar   
Ali Sohel
কুলিয়ারচরে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মঘণ্টায় তালা: ভোগান্তিতে সেবাগ্রহীতারা..
কুলিয়ারচরে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মঘণ্টায় তালা: ভোগান্তিতে সেবাগ্রহীতারা..
ছবি: সংগৃহীত
****

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ১ নং গোবরিয়া আব্দুল্লাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সরকারি অফিস চলাকালীন সময়ে তালা ঝুলিয়ে কর্মকর্তা কর্মচারিদের নিজের ইচ্ছে মতো অফিসে আসাযাওয়া ও সেবা গ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার ২৬ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি কার্যালয়টি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিস খোলা থাকার কথা থাকলেও, দুপুরের ঠিক আগমুহূর্তে অফিসের প্রধান ফটকে তালা ঝুলতে দেখা যায়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে অফিসের সামনে আট থেকে দশজন সেবাগ্রহীতা দীর্ঘ সময় ধরে কর্মকর্তাদের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হন। কাজের প্রয়োজনে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ অফিসের এমন বেহাল দশা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 

ভুক্তভোগী সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ অনুযায়ী, তারা সকাল ১১টার দিকে ভূমি অফিসে এসে দেখেন অফিস তালাবদ্ধ এবং ভেতরে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী উপস্থিত নেই। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির দেখা না মেলায় তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। 

সেবা নিতে আসা লক্ষ্মীপুর ভাটিপাড়া গ্রামের মাসুদ মিয়া (৪৪) আক্ষেপ করে বলেন, জরুরি প্রয়োজনে খাজনা প্রদানসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজের জন্য তারা নিয়মিত এই অফিসে আসেন, কিন্তু প্রায়ই কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির কারণে তাদের খালি হাতে ফিরতে হয়। আজও জমির মাঠ পর্চা নেওয়ার জন্য দীর্ঘক্ষণ ধরে অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু কাউকে না পেয়ে নানা হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁর।

একই আক্ষেপ প্রকাশ করেন সেবাগ্রহীতা রেখা, আছমা এবং লক্ষ্মীপুর মাতুয়ারকান্দা গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ আসাদ মিয়া তারা জানান, দূরদূরান্ত থেকে জরুরি কাজে এসে অফিসের দরজায় তালা ঝুলতে দেখে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। পূর্ব গোবরিয়া গ্রামের আল-আমিন নামের আরেক সেবাগ্রহীতা জানান, খারিজের জন্য এসে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর দেখা পাননি তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক মো. রুকন উদ্দিন মোবাইল ফোনে জানান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্যার তাকে উপজেলা ভূমি অফিসে ডেকে নেওয়ায় তিনি বাধ্য হয়ে অফিসে তালা লাগিয়ে সেখানে গেছেন।

১নং গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. মনির উদ্দিন আহমাদও একই সুরে কথা বলেন। তিনি জানান, এসিল্যান্ড স্যার রুকন উদ্দিনকে তাঁর কার্যালয়ে ডেকে নেওয়ায় তিনি অফিস বন্ধ করে সেখানে গেছেন।

দায়িত্বশীলদের এমন আচরণ প্রসঙ্গে কুলিয়ারচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ.এইচ.এম ইজাজুল হক জানান, অফিস চলাকালীন সময়ে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে তালা ঝুলিয়ে বন্ধ রাখার কোনো নিয়ম বা বিধান নেই। তবে তিনি দাবি করেন, অফিস চলাকালীন সময়ে ওই কার্যালয়ের অফিস সহায়ক মো. রুকন উদ্দিনকে তিনি উপজেলা ভূমি অফিসে দেখেছেন। বিষয়টি ওই ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার (নায়েব) সাথে কথা বলে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাফফাত আরা সাঈদ জানান, সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে বর্তমানে নিয়মিত নায়েব নেই, অতিরিক্ত দায়িত্বে একজন কর্মকর্তা রয়েছেন। তিনি দায়িত্বে থাকলেই অফিস খোলা থাকে। তবে অফিসে অফিস সহায়কও রয়েছেন জানানো হলে তিনি বিষয়টি জেনে জানাবেন বলে জানান।

نظری یافت نشد


News Card Generator