চাঁদপুরের মাদ্রাসায় ছাত্রীকে বেত্রাঘাতে রক্তাক্ত ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ: অভিভাবক মহলে তীব্র ক্ষোভ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

চাঁদপুরের মাদ্রাসায় ছাত্রীকে বেত্রাঘাতে রক্তাক্ত ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ: অভিভাবক মহলে তীব্র ক্ষোভ..

Akhter Hossain avatar   
Akhter Hossain
চাঁদপুরের মাদ্রাসায় ছাত্রীকে বেত্রাঘাতে রক্তাক্ত ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ: অভিভাবক মহলে তীব্র ক্ষোভ..
চাঁদপুরের মাদ্রাসায় ছাত্রীকে বেত্রাঘাতে রক্তাক্ত ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ: অভিভাবক মহলে তীব্র ক্ষোভ..
ছবি: সংগৃহীত
চাঁদপুর সদর উপজেলার বাবুরহাট–শিলন্দিয়া এলাকার দাওয়াতুল কোরআন হাফিজিয়া মহিলা মাদ্রাসায় এক ছাত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে, পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির উচ্চহারে ফি আদায় ও অব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ..

চাঁদপুর সদর উপজেলার বাবুরহাট–শিলন্দিয়া এলাকায় অবস্থিত দাওয়াতুল কোরআন হাফিজিয়া মহিলা মাদ্রাসায় এক ছাত্রীকে শিক্ষিকার বেত্রাঘাতে রক্তাক্ত করার ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের অভিযোগ, মাদ্রাসার এক শিক্ষিকা অমানবিক কায়দায় বেত্রাঘাত করলে শিশুটি গুরুতর জখম হয়। ঘটনার পর অভিভাবক প্রধান শিক্ষক জামাল হুজুরের কাছে বিচার চাইতে গেলে তিনি শুরুতে ঘটনাটি অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে আঘাতের দৃশ্য ধারণ করা ছবি ও প্রমাণ উপস্থাপন করা হলে প্রধান শিক্ষক বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং চিকিৎসার খরচ বাবদ অর্থ প্রদানের প্রস্তাব দেন। এই ঘটনাটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন শারীরিক নির্যাতনের নজির নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিনের অমানবিক শাসন পদ্ধতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। মাদ্রাসার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার প্রশ্নে অভিভাবকরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের ভাষ্যমতে, মাদ্রাসাটিতে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা একটি নিয়মিত প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত করার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠে আসছে, যা শিশু নিরাপত্তার চরম লঙ্ঘন। শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক নীতিমালা নিয়েও ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মাসিক ১৫০০ টাকা বেতনের পাশাপাশি প্রতি মাসে ৩০০ টাকা হারে পরীক্ষার ফি আদায় করা হচ্ছে, যা সাধারণ পরিবারের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর্থিক সংকটের কারণে ফি পরিশোধে ব্যর্থ হলে শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের হুমকি দেওয়ার মতো অভিযোগও পাওয়া গেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে এমন বাণিজ্যিক ও নিপীড়নমূলক আচরণ শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং অভিভাবকদের সরাসরি অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক জামাল হুজুর সকল ফি আদায়কে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিয়ম বলে দাবি করলেও, এর পেছনে কোনো প্রশাসনিক অনুমোদন বা সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। এদিকে বাবুরহাট থেকে মৈশাদি পর্যন্ত এলাকায় গড়ে ওঠা অন্তত দশটি মাদ্রাসার কার্যক্রম, নিবন্ধন ও শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওপর স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা। শুধু দাওয়াতুল কোরআন মাদ্রাসা নয়, পার্শ্ববর্তী অন্য একটি মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়নের অভিযোগের মতো স্পর্শকাতর ঘটনা সামনে আসায় পুরো এলাকার ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে প্রতিটি মাদ্রাসার আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন, যাতে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

পরিশেষে, চাঁদপুরের এই মাদ্রাসাগুলোতে ঘটে যাওয়া ধারাবাহিক অভিযোগসমূহ কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়, বরং এটি শিশু অধিকার ও নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত একটি জাতীয় উদ্বেগের বিষয়। শাসনের নামে শারীরিক নির্যাতন এবং শিক্ষার নামে বাণিজ্যিক শোষণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি অনতিবিলম্বে এই মাদ্রাসাগুলোর নিবন্ধন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে না পারে, তবে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা আরও হুমকির মুখে পড়বে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশু-বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি, যা শিক্ষার্থীদের একটি নিরাপদ ও সুস্থ শিক্ষাজীবন উপহার দিতে পারে।

Nenhum comentário encontrado


News Card Generator