কওমি আলেমদের সুরক্ষায় রক্ত দেওয়ার ঘোষণা ধর্মমন্ত্রীর, মাদ্রাসায় অপরাধ রোধে কঠোর হুঁশিয়ারি.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

কওমি আলেমদের সুরক্ষায় রক্ত দেওয়ার ঘোষণা ধর্মমন্ত্রীর, মাদ্রাসায় অপরাধ রোধে কঠোর হুঁশিয়ারি..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
কওমি আলেমদের সুরক্ষায় রক্ত দেওয়ার ঘোষণা ধর্মমন্ত্রীর, মাদ্রাসায় অপরাধ রোধে কঠোর হুঁশিয়ারি..
কওমি আলেমদের সুরক্ষায় রক্ত দেওয়ার ঘোষণা ধর্মমন্ত্রীর, মাদ্রাসায় অপরাধ রোধে কঠোর হুঁশিয়ারি..
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীতে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রিবার্ষিক কাউন্সিলে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ কওমি আলেমদের সুরক্ষায় সর্বস্ব ত্যাগের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন এবং মাদ্রাসায় চলমান অনাকাঙ্ক্ষিত ..

শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রিবার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ দেশের ধর্মীয় অঙ্গনের আলেম ও ইমামদের প্রতি সরকারের দৃঢ় সমর্থনের বার্তা প্রদান করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন যে, দেশের ইসলামের ধারক-বাহক ও কওমি ওলামায়ে কেরামদের সুরক্ষায় প্রয়োজনে তিনি নিজের রক্ত দিতেও দ্বিধাবোধ করবেন না। এই বক্তব্যটি মূলত দেশের আলেম সমাজের প্রতি বর্তমান সরকারের গভীর আস্থা ও সংহতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মন্ত্রী তার বক্তব্যে ইমামদের সমাজের পথপ্রদর্শক হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, যারা দেশের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও আদর্শকে ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছেন, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এই সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি দেশের ইমামদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তাদের মর্যাদা সমুন্নত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

সম্মেলন চলাকালীন সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় ঘটে যাওয়া বলাৎকার ও অশালীন কর্মকাণ্ডের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উঠে আসে। ধর্মমন্ত্রী এই ধরনের ঘটনাকে দুঃখজনক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা রক্ষা করা সকলের দায়িত্ব। তিনি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের জঘন্য ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকার কোনো প্রকার শৈথিল্য প্রদর্শন করবে না এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, ইমাম সমিতির নেতারা তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা তুলে ধরে বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ পেশাগত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। তারা মনে করেন, ইমামদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে সমাজের তৃণমূল পর্যায়ে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার সঠিক প্রসার বাধাগ্রস্ত হবে, যা সামগ্রিক সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে।

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় আলেমদের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে কেউ যেন পরিকল্পিতভাবে উসকানি দিয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ইমামদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জুমার খুতবায় মাদক, সন্ত্রাস ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে ইমামদের আরও জোরালো এবং সাহসী বক্তব্য প্রদান করতে হবে। ইমামদের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা অঢেল হওয়ায় তাদের বার্তা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ধরনের নজরদারি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি ইমামদের দাবি-দাওয়ার যৌক্তিক সমাধানের আশ্বাস প্রদান করা হয়েছে, যাতে তারা নিরবচ্ছিন্নভাবে তাদের আদর্শিক ও সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হন।

সামগ্রিকভাবে এই ঘটনাটি দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ অনিয়ম রোধে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং আলেম সমাজের প্রতি মন্ত্রীর এই অঙ্গীকার ভবিষ্যতে পরিবহন ও অন্যান্য খাতের ন্যায় ধর্মীয় শিক্ষাঙ্গনেও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইমামদের বেতন-ভাতা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করার মাধ্যমে যদি তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব হয়, তবে সমাজে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যে লড়াই ইমামরা পরিচালনা করছেন, তা আরও বেগবান হবে। পরিশেষে, ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, যা মোকাবিলায় আলেম সমাজ ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগই শেষ পর্যন্ত কার্যকর ফলাফল বয়ে আনতে পারে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator