একটি শিশু যখন কথা বলতে পারে না, নিজের পায়ে হাঁটতে পারে না কিংবা বয়স অনুযায়ী স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে না, তখন তার সঙ্গে প্রতিটি দিনই পরিবারের জন্য হয়ে ওঠে নতুন এক সংগ্রাম। সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ আর তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ছুটে বেড়ান মা-বাবা। এমন সব পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসার আলোকে অটিজম ও ডাউন সিনড্রোমের চিকিৎসা উদ্ভাবন করে সাড়া ফেলেছেন তিনি। প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসা বিজ্ঞানে অটিজম ও ডাউন সিনড্রোমের চিকিৎসা না থাকলেও প্রায় পাঁচ দশকের চিকিৎসা-অভিজ্ঞতার আলোকে অটিজম ও ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় বিশেষ পদ্ধতি উদ্ভাবনের দাবি করেছেন তিনি। তার চিকিৎসায় শিশুদের কথা বলা, চলাফেরা ও শেখার ক্ষেত্রে উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন অভিভাবক।
দীর্ঘদিন ধরে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ডা. আবু মুছা খানের চেম্বারে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রোগী আসেন। অটিজম শিশুদের স্নায়ুবিকাশজনিত সমস্যা ছাড়াও দীর্ঘমেয়াদি নানা রোগের চিকিৎসা দেন তিনি। প্রবাসী রোগীদেরও অনলাইনে পরামর্শ দেন। তার কাছে আসা অনেক পরিবারের প্রত্যাশা, সন্তানের অবস্থার কিছুটা উন্নতিও যেন তাদের জীবনে নতুন আশার আলো হয়ে ওঠে।
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থেকে ছেলের চিকিৎসা নিতে আসা করিমুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ছেলে আগে একেবারেই কথা বলতে পারত না। ডা. আবু মুছা খানের চিকিৎসা নেওয়ার পর তার অবস্থার উন্নতি হয়েছে। আশা করছি, সামনে আরও ভালো করবে।’
মেয়ের চিকিৎসা নিতে আসা ফাতেমা বেগম জানান, জন্মগত সমস্যার কারণে তার মেয়ে হাঁটতে পারত না। চিকিৎসা নেওয়ার পর এখন সে নিজে নিজে হাঁটতে পারছে। সন্তানের এমন পরিবর্তন তার কাছে স্বস্তির বিষয়।
ব্যাসপুর থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রুমানা বেগম বলেন, দীর্ঘদিন পাইলসের ব্যথায় ভুগে বিভিন্ন ওষুধ সেবন করেও প্রত্যাশিত উপকার পাননি। পরে ডা. আবু মুছা খানের কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়ে উপকৃত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
চিকিৎসার পাশাপাশি অস্বচ্ছল রোগীদের প্রতি সহমর্মিতার জন্যও স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত ডা. আবু মুছা খান।
দন্তচিকিৎসক ও বোয়ালমারী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ডা. কাজী সেলিমুজ্জামান সেলিম বলেন, ‘ডা. আবু মুছা খান একজন মানবিক চিকিৎসক। আর্থিক অস্বচ্ছল অনেক রোগীর কাছ থেকে তিনি চিকিৎসার জন্য টাকা নেন না। নিম্ন আয়ের মানুষের প্রতি তার সহমর্মিতা প্রশংসনীয়।’
বিলাসী শপিং সেন্টার দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, ‘রোগীদের সঙ্গে তার আন্তরিক ব্যবহার ও সেবামূলক মনোভাব তাকে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।’
নিজের কাজের লক্ষ্য সম্পর্কে ডা. আবু মুছা খান বলেন, ‘আল্লাহর অশেষ রহমতে শিশুদের চিকিৎসায় কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আশার আলো নিয়ে আমার কাছে আসেন। প্রবাসীরাও অনলাইনে যোগাযোগ করে পরামর্শ নেন। টাকার অভাবে আমার চেম্বার থেকে কোনো রোগী যেন খালি হাতে ফিরে না যায়, সেই চেষ্টা করি। অর্থ উপার্জন নয়, মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সাধ্যমতো চিকিৎসাসেবা দেওয়াই আমার মূল লক্ষ্য।’
চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি হোমিওপ্যাথি শিক্ষার প্রসারেও ভূমিকা রেখেছেন ডা. আবু মুছা খান। বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গায় দুটি হোমিওপ্যাথিক কলেজ প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন তিনি। এ ছাড়া তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বোয়ালমারী উপজেলা পর্যায়ে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদের সংগঠন ডিএইচএমএসের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
সন্তানের সুস্থতা ও বিকাশ নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবারগুলোর কাছে সামান্য উন্নতিও অনেক বড় প্রাপ্তি। সেই প্রত্যাশা ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা থেকেই বোয়ালমারীতে পরিচিতি পেয়েছেন ডা. আবু মুছা খান। অটিজম ও ডাউন সিনড্রোমের চিকিৎসায় তার উদ্ভাবনের দাবি নিয়ে গবেষণা হলে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় নতুন দ্বার উন্মোচন করবে বলে মনে করেন অনেকে।