উল্লাপাড়া রামকৃষ্ণপুরে জনপ্রিয়তার শীর্ষে চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল আজিজ আকন্দ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

উল্লাপাড়া রামকৃষ্ণপুরে জনপ্রিয়তার শীর্ষে চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল আজিজ আকন্দ..

Md Bawezid Hossain avatar   
Md Bawezid Hossain
উল্লাপাড়া রামকৃষ্ণপুরে জনপ্রিয়তার শীর্ষে চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল আজিজ আকন্দ..
উল্লাপাড়া রামকৃষ্ণপুরে জনপ্রিয়তার শীর্ষে চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল আজিজ আকন্দ..
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, জনপ্রতিনিধিত্বের অভিজ্ঞতা ও জনসম্পৃক্ততাকে ঘিরে ২০২৭ সালের নির্বাচন নিয়ে আলোচনা..

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা থানার ১নং রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মো. আবদুল আজিজ আকন্দকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে সামনে রেখে ২০২৭ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে ইউনিয়নের নির্বাচনী আলোচনায় উঠে আসছে তাঁর নাম।

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ। হাটবাজার, পাড়া-মহল্লা ও স্থানীয় রাজনৈতিক পরিসরে আগামী দিনের নেতৃত্ব নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। এর মধ্যে আবদুল আজিজ আকন্দের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও অতীতের জনপ্রতিনিধিত্বের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। তাঁর প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক আগামী নির্বাচনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা

আলহাজ্ব মো. আবদুল আজিজ আকন্দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠার সময় তিনি কলেজে অধ্যয়নরত ছিলেন। সে সময় থেকেই দলের বিভিন্ন সভা-সমাবেশ, মিছিল ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্বও পালন করেছেন বলে জানান তিনি।

আজিজ আকন্দ বলেন, রাজনীতি তাঁর কাছে কেবল পদ-পদবি অর্জনের বিষয় নয়; বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিপদে-আপদে সহযোগিতা করা এবং সামাজিক দায়িত্ব পালনের একটি মাধ্যম। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা এবং তাঁদের সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি।

১৯৮৩ সালে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন

আজিজ আকন্দ জানান, ১৯৮৩ সালে স্থানীয় মানুষের অনুরোধে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদে নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি বিজয়ী হন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বলে মনে করেন তিনি।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন প্রতিকূলতার কথা তুলে ধরে আজিজ আকন্দ অভিযোগ করেন, বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কারণে বিভিন্ন সময়ে তাঁকে পুলিশি হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ছবিতে কালি লাগানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান মরহুম আবু বক্কর প্রাংসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ওই মামলায় তাঁকেও আসামি করা হয়েছিল বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর আইনি লড়াইয়ের পর ২০২২ সালে আদালতের রায়ে তাঁরা মামলা থেকে অব্যাহতি পান।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়ার কারণেও পুলিশি হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নির্বাচিত হলে উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি

২০২৭ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আবদুল আজিজ আকন্দ বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেবেন।

তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে শিক্ষা ও চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়ন, যোগাযোগ অবকাঠামোর অগ্রগতি, মসজিদ-মাদ্রাসা, কবরস্থান ও মন্দিরের উন্নয়ন এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। পাশাপাশি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

আজিজ আকন্দ বলেন, আমি দলমত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করতে চাই। ইউনিয়ন পরিষদ হবে সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভরসার জায়গা। উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চাই, যাতে জনগণ জানতে পারেন তাঁদের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় হচ্ছে।

ভোটারদের প্রত্যাশা উন্নয়ন ও জনবান্ধব নেতৃত্ব

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের আগামী দিনের নেতৃত্ব নিয়ে স্থানীয় ভোটারদের প্রত্যাশা, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যেন এলাকার সমস্যা সমাধানে আন্তরিক হন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা, নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধি এবং দরিদ্র ও অসহায় মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, আমরা চাই, এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যেন ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে সহজে সেবা পান। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও অসহায় মানুষের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা যেন প্রকৃত প্রাপকেরা পান, সেদিকে জনপ্রতিনিধির নজর থাকা দরকার।

আরেক ভোটারের ভাষ্য, নির্বাচনের সময় অনেকেই নানা প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু আমরা চাই, নির্বাচিত হওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হোক। ইউনিয়নের উন্নয়নকাজে স্বচ্ছতা থাকুক, আর সাধারণ মানুষ যেন তাঁদের সমস্যার কথা জনপ্রতিনিধিকে নির্ভয়ে বলতে পারেন।

এদিকে তরুণ ভোটার বলছেন, আমাদের প্রত্যাশা, ইউনিয়নে শিক্ষা, খেলাধুলা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হোক। তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে সামাজিক ও ক্রীড়ামূলক কর্মকাণ্ড বাড়ানো প্রয়োজন। জনপ্রতিনিধিরা এসব বিষয়ে উদ্যোগ নিলে তরুণেরা উপকৃত হবে।

ভোটারদের এসব প্রত্যাশায় এলাকার উন্নয়ন, নাগরিক সেবা এবং জবাবদিহিমূলক নেতৃত্বের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে ভোটারদের প্রকৃত বক্তব্য ও পরিচয় যাচাই করে সংবাদে যুক্ত করা প্রয়োজন।

জনপ্রিয়তা ধরে রাখার প্রত্যাশা

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ও অতীতের জনপ্রতিনিধিত্বকে সামনে রেখে নির্বাচনী মাঠে নিজের অবস্থান তুলে ধরতে চান আবদুল আজিজ আকন্দ। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক তাঁর নির্বাচনী প্রস্তুতির অন্যতম ভিত্তি বলে মনে করেন তিনি। তবে আসন্ন নির্বাচনে সম্ভাব্য অন্য প্রার্থীদের অবস্থান, কর্মপরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততাও ভোটারদের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখবে।

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের আগামী নির্বাচন শুধু চেয়ারম্যান নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এলাকার উন্নয়ন, নাগরিক সেবা, সামাজিক সম্প্রীতি ও মানুষের প্রত্যাশা পূরণের প্রশ্ন। আলহাজ্ব মো. আবদুল আজিজ আকন্দের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আগামী নির্বাচনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

نظری یافت نشد


News Card Generator