সাংবাদিকদের অসম্মানজনক মন্তব্যের প্রতিবাদ, তালা হাসপাতালের অভিযোগ তদন্তের দাবি.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

সাংবাদিকদের অসম্মানজনক মন্তব্যের প্রতিবাদ, তালা হাসপাতালের অভিযোগ তদন্তের দাবি..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক: avatar   
শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক:
সাংবাদিকদের অসম্মানজনক মন্তব্যের প্রতিবাদ, তালা হাসপাতালের অভিযোগ তদন্তের দাবি..
সাংবাদিকদের অসম্মানজনক মন্তব্যের প্রতিবাদ, তালা হাসপাতালের অভিযোগ তদন্তের দাবি..
ছবি: সংগৃহীত
তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে করা মন্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন সাংবাদিকেরা..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা:

সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে করা মন্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন সাংবাদিকেরা। একই সঙ্গে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা, রোগী হয়রানি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় তালা প্রেসক্লাব চত্বরে তালা প্রেসক্লাব ও উপজেলা প্রেসক্লাবের যৌথ উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম হায়দারের সভাপতিত্বে এবং সহসভাপতি আসাদুজ্জামান রাজুর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন একাত্তর টিভির জেলা প্রতিনিধি বরুণ ব্যানার্জি, সমাজসেবক ও বিএনপি নেতা রেজাউল ইসলাম রেজা, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুর ইসলাম সাইদ, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আকবার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মিঠু, পাটকেলঘাটা প্রেসক্লাবের সদস্যসচিব খান নাজমুল হোসেন এবং তালা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন।

এ ছাড়া সাংবাদিক এম এ ফয়ছাল, শফিকুল ইসলাম, শামীম খান, এম এম জামান মনি, শাহিন আলম, আজমল হোসেন জুয়েল, শেখ ইমরান, তরিকুল ইসলাম, আতাউর রহমান, মোখলেছুর রহমান, মোতাহিরুল মাহিন, মীর মিল্টন, গোলাম রব্বানী, ফারুক সাগর, জয়দেব চক্রবর্তী, শিরিনা আক্তার, অর্জুন বিশ্বাস, সেকেন্দার আবুজাফর বাবু, জমির উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম নয়ন, আরিফ বিল্লাহ, কামাল হোসেন ও হারুন অর রশিদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা এতে অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে গণমাধ্যমকর্মীরা দায়িত্বশীল, সংযত ও সম্মানজনক আচরণ প্রত্যাশা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের নিয়ে এমন মন্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত ও পেশাগত মর্যাদার পরিপন্থী। তাঁরা এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে শুধু ফেসবুক পোস্টের প্রতিবাদই নয়, তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও একাধিক অভিযোগ উত্থাপন করেন বক্তারা। তাঁদের অভিযোগ, বর্তমান স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা যোগদানের পর হাসপাতালের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রোগীদের হয়রানি বৃদ্ধি, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা না পাওয়া এবং হাসপাতালের মালামাল বিক্রির অভিযোগ তুলে তাঁরা এসব বিষয়ে তদন্তের দাবি জানান।

বক্তাদের অভিযোগ, হাসপাতালের মালামাল বিক্রির বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কিছু মালামাল ফেরত আনা হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত ৪০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

বক্তারা বলেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তি কোনোভাবেই কাম্য নয়। উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

সাংবাদিকদের নিয়ে ডা. মিজানুর রহমানের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরে তালা ও সাতক্ষীরার সাংবাদিকদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “আমার মনে হয় কেয়ামতের ময়দান থেকে সবচেয়ে বেশি জাহান্নামে যাবে মিডিয়া কর্মী।”

পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল থেকে তালা ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন সাংবাদিক নিজেদের ফেসবুক আইডিতে ওই মন্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে কয়েকজন সাংবাদিক তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও প্রকাশ্যে আনেন।

এরপর বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে আরেকটি পোস্ট দিয়ে আগের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন ডা. মিজানুর রহমান। সেখানে তিনি লেখেন, “কেয়ামতের ময়দান থেকে সবচেয়ে বেশি জাহান্নামে যাবে কে, একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন। আমার দেওয়া পোস্ট এক্সপ্লেইন করলাম। আমার পোস্টে কোনো মিডিয়াকর্মী কষ্ট পেলে আমি দুঃখিত।”

এ বিষয়ে ডা. মিজানুর রহমান বলেন, “আমার দেওয়া পোস্ট এক্সপ্লেইন করেছি। আমার পোস্টে কোনো মিডিয়াকর্মী কষ্ট পেলে আমি দুঃখিত।”

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাংবাদিকেরা মন্তব্যের প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, রোগীদের ভোগান্তি এবং উত্থাপিত অনিয়মের অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

তবে হাসপাতালসংক্রান্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

Nessun commento trovato


News Card Generator