শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় বাড়ির পাশের গোবর রাখার গর্তে জমে থাকা পানিতে পড়ে স্বাক্ষর নামে দেড় বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের আলাদীপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত স্বাক্ষর ওই গ্রামের মিঠুন শীলের সন্তান। তার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার-পরিজনসহ পুরো গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে বাড়ির আশপাশে খেলাধুলা করছিল শিশু স্বাক্ষর। এ সময় পরিবারের সদস্যদের অজান্তে সে বাড়ির পাশে গরুর গোবর রাখার জন্য তৈরি গর্তে জমে থাকা পানিতে পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর পরিবারের লোকজন বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে আলাদীপুর গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। এদিন বিকেলে তালা মহাশ্মশানে বেদনাবিধুর পরিবেশে শিশুটির শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।
জাতপুর গ্রামের এম. এ. মান্নান এ দুর্ঘটনার বিষয়ে জানান, খেলার সময় পরিবারের সদস্যদের অজান্তে শিশুটি পানিতে পড়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
তালা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রাজ্জাক শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়দের মতে, বাড়ির আশপাশে অরক্ষিত গর্ত, ডোবা, পুকুর ও অন্যান্য জলাশয় ছোট শিশুদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে হাঁটতে শেখা ও খেলাধুলা করা শিশুদের ক্ষেত্রে সামান্য অসতর্কতাও ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে তালা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে সামনে আসছে। এ পরিস্থিতিতে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার পাশাপাশি বাড়ির আশপাশে থাকা পানিভর্তি গর্ত ও জলাশয় নিরাপদ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সচেতন মহল।
তাঁদের মতে, শিশুদের কখনোই পানির উৎস বা অরক্ষিত গর্তের আশপাশে একা রাখা উচিত নয়। গোবর রাখার গর্তসহ বাড়ির আশপাশের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো ঢেকে রাখা, চারপাশে নিরাপদ বেড়া দেওয়া এবং শিশুদের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখার মাধ্যমে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
একটি শিশুর অকালমৃত্যু শুধু একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি নয়, বরং শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। তাই প্রতিটি বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ শিশুদের জন্য নিরাপদ করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।