জামালপুরে বিয়ের ১৯ দিনের মাথায় বিএনপি নেতার স্ত্রীকে নিয়ে পলায়ন: ‘পাতানো মামা’সহ গ্রেপ্তার ২.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

জামালপুরে বিয়ের ১৯ দিনের মাথায় বিএনপি নেতার স্ত্রীকে নিয়ে পলায়ন: ‘পাতানো মামা’সহ গ্রেপ্তার ২..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
জামালপুরে বিয়ের ১৯ দিনের মাথায় বিএনপি নেতার স্ত্রীকে নিয়ে পলায়ন: ‘পাতানো মামা’সহ গ্রেপ্তার ২..
জামালপুরে বিয়ের ১৯ দিনের মাথায় বিএনপি নেতার স্ত্রীকে নিয়ে পলায়ন: ‘পাতানো মামা’সহ গ্রেপ্তার ২..
ছবি: সংগৃহীত
জামালপুরের মেলান্দহে বিয়ের মাত্র ১৯ দিনের মাথায় স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা সুজন মণ্ডল, যার প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত এমদাদুল হক অরচন ও ওই গৃহবধূকে গ্রেপ্তার ক..

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় বিয়ের ১৯ দিনের মাথায় এক গৃহবধূর রহস্যজনকভাবে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ঝাউগড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুজন মণ্ডলের স্ত্রী সুমি আক্তার গত ২০ অক্টোবর এমদাদুল হক অরচন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের সময় পাওয়া প্রায় সাত লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকারসহ সুমি আক্তারকে নিয়ে পালিয়ে যান অরচন, যিনি সম্পর্কে সুমির পাতানো মামা। গত ১ অক্টোবর সুজন মণ্ডলের সঙ্গে সুমি আক্তারের বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর থেকেই অরচন বিভিন্নভাবে ওই গৃহবধূকে প্ররোচিত করে আসছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার দিন সুজন বাড়িতে না থাকার সুযোগে সুমি আক্তার তার মায়ের সঙ্গে দেখা করার অজুহাতে বাড়ি থেকে বের হয়ে সরাসরি অরচনের সঙ্গে যোগ দেন। পরিবারের সদস্যদের বাধা উপেক্ষা করে গৃহবধূর এমন পলায়ন এবং বিপুল পরিমাণ সম্পদ নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি পরিকল্পিত প্রতারণা বলেই প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে।

ভুক্তভোগী সুজন মণ্ডলের দাবি, বিয়ের পর থেকেই অরচন নানা কৌশলে তার স্ত্রীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। ঘটনার পরবর্তী দিন সুজনের পরিবারের সদস্যরা খোঁজ নিতে গেলে সুমির মা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে তাদের ফিরিয়ে দেন। সুজন জানান, যে স্বর্ণালংকার নিয়ে সুমি পালিয়ে গেছেন তার বাজারমূল্য ছয় লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকা। এ ঘটনায় সুজন মণ্ডল মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, অরচন মেলান্দহ পৌরসভায় গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত থাকায় তার প্রভাব এবং প্রলোভনে সুমি আক্তার এই অসংগত পদক্ষেপে পা বাড়িয়েছেন। বিষয়টি কেবল ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন নয়, বরং সুপরিকল্পিত প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের একটি জঘন্য উদাহরণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

এদিকে অভিযোগের ভিত্তিতে মেলান্দহ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে জামালপুর শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে এমদাদুল হক অরচনকে আটক করে। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুমি আক্তারকে উদ্ধার করা হয়। মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক নিশ্চিত করেছেন যে, ভুক্তভোগী সুজন মণ্ডলের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে উভয়কেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত অরচন মেলান্দহ পৌরসভার সরকারি কর্মচারী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার। পুলিশের ভাষ্যমতে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এই ঘটনাটি কেবল একটি দাম্পত্য কলহের চিত্র নয়, বরং সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের এক গভীর সংকটকে সামনে নিয়ে এসেছে। পাতানো সম্পর্কের আড়ালে এমন প্রতারণামূলক পলায়ন এবং সরকারি চাকরিজীবী হয়েও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া স্থানীয় জনমনে নিরাপত্তাহীনতার উদ্বেগ তৈরি করেছে। ঘটনার বিচারিক নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই অঞ্চলের সামাজিক স্থিতিশীলতা ও পারিবারিক বন্ধনের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাববার অবকাশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় রাজনীতি ও প্রশাসনের সমন্বয়ে দ্রুত বিচার সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে এ ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।

Nessun commento trovato


News Card Generator