যুবদল নেতা শাকের হত্যা: যুবদল নেতা রনিসহ গ্রেপ্তার ২ | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

যুবদল নেতা শাকের হত্যা: যুবদল নেতা রনিসহ গ্রেপ্তার ২

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
যুবদল নেতা শাকের হত্যা: যুবদল নেতা রনিসহ গ্রেপ্তার ২
যুবদল নেতা শাকের হত্যা: যুবদল নেতা রনিসহ গ্রেপ্তার ২
ছবি: সংগৃহীত
****

মাগুরা পৌরসভার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রয়েল পরিবহনের কাউন্টারে গুলিতে যুবদল নেতা শাকের হোসেন (৩৯) নিহতের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রনি শিকদার (৩৮) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে শাকের হোসেন হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মাগুরা শহরের তাঁতিপাড়া এলাকায় রনির নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর সদর উপজেলার বুজরুক শ্রীকৃতী এলাকা থেকে শামীমা তাবাসসুম (৩১) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাগুরা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুজ্জামান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে গ্রেপ্তার দুজনের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে পাওয়া তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আরও তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।

ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং অপরাধে ব্যবহৃত অস্ত্র ও যানবাহন উদ্ধারে তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।

যেভাবে জানা যায় শাকেরের মৃত্যুর কারণ

এর আগে বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বাস টার্মিনালে রয়েল পরিবহনের কাউন্টারে দায়িত্ব পালনকালে গুলিবিদ্ধ হন শাকের হোসেন। তিনি মাগুরা পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ওই কাউন্টারের মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

প্রথমে অসুস্থতাজনিত কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান। পরে গোসলের প্রস্তুতির সময় মাথার পেছনে ক্ষতচিহ্ন দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন তাঁরা।

পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের সময় তাঁর মাথার খুলির ভেতর থেকে একটি বুলেট উদ্ধার করা হয়। এতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়।

অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

এ ঘটনায় বুধবার রাতেই নিহতের স্ত্রী শারমিন আক্তার অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মাগুরা সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত করছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

এদিকে, শাকেরের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করতে না পারায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক খন্দকার মাইনুল হাসানকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মহসিন উদ্দিন জানিয়েছেন, এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ রনির পরিবারের

গ্রেপ্তার রনি শিকদারের বড় ভাই রাজীব শিকদার দাবি করেছেন, নিহত শাকেরের সঙ্গে রনির দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। তাঁর অভিযোগ, বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই রনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।

তবে পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে পাওয়া তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণ যাচাই করে তদন্ত চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন।

হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ

শাকের হোসেন হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে মাগুরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাঁরা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবি জানান।

Inga kommentarer hittades


News Card Generator